বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬
উলিপুরে কামিল পরীক্ষা নিয়ে নানা বিতর্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৯২২)
কুড়িগ্রামের উলিপুরে  শিক্ষার্থীদের কামিল পরীক্ষা নিজ মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থাকলেও রহস্যজনক ভাবে পুনরায় ওই মাদ্রাসাকেই পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করায় পরীক্ষার পরিবেশ ও ফলা ফলের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল এক পত্রে পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ কমিটির ৮ম সভার সুপারিশ এবং ১৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত উলিপুর উপজেলার সাতদরগা নেছারিয়া কামিল মাদরাসাকে কামিল  (দুইবছর মেয়াদি) প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব পরীক্ষা ২০২২-এর কেন্দ্র হিসেবে স্থাপন করা হয়। তবে কেন্দ্রটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের স্বার্থে ভেন্যু হিসেবে উলিপুর বহুমুখী ফাজিল মাদরাসাকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওই মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ‌্যক্ষ মা‌য়েদুল ইসলা‌মের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছ‌রের ১৯ মে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী উলিপুর বহুমুখী ফাজিল মাদ্রামা কামিল  পরীক্ষার ভেন্যুটি বাতিল করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী। প‌রে সাতদরগা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসাকে পরীক্ষা কেন্দ্র হি‌সে‌বে পুনর্বহাল রাখা হয়।

সরেজমিন ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই বছর মেয়াদি কামিল  পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মোট ১১২ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে প্রথমবর্ষে ৬২ জন এবং দ্বিতীয় বর্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। পরীক্ষা চলাকালীন মাদ্রাসাটির সকল ক্লাস বন্ধ রেখে দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।একই মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষ নিচ্ছেন। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদারকির অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

জানা যায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রথম পরীক্ষার দিন গেলেও পরবর্তীতে আর কেন্দ্রে যাননি তিনি। কেন্দ্র তদারকির জন্য একজন ইন্সট্রাক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তার ভূমিকা কার্যত নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি মাদ্রাসা কী ভাবে মাস্টার্স মানের পরীক্ষা কেন্দ্র হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন  রয়েছে। ভেন্যু কেন্দ্র হিসেবে সরকারি কলেজ কিংবা আলিয়া মাদরাসা নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত ছিল। একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নেওয়ায় এবং প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় পরীক্ষার পরিবেশ ও ফলা ফলের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা বলেন, শুধুখাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হলে আরো ভা‌লো হ‌তো ব‌লে জোক ক‌রেন তারা।

তারা আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন  ধরে মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ  দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। নিয়মিত পরিচালনা কমিটিও নেই। অবকাঠামো ভঙ্গুর এবং চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

কেন্দ্রে নিয়োজিত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. লস্কর আলী বলেন, এখানে দেখার কিছু নাই। পরীক্ষা নিচ্ছেন সবাই এক মাদ্রাসার শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মায়েদুল ইসলাম বলেন,পরীক্ষার্থীরা সবাই আমার মাদ্রাসার। পরীক্ষা  ভালোভাবে হচ্ছে। কোন সমস্যা নাই।  

এ বিষ‌য়ে প‌রীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগা‌যোগ করা হ‌লে তি‌নি ব‌লেন, উ‌লিপু‌রে সমমা‌নের মাদ্রাসা নাই, সে কার‌নে ও‌দের কেন্দ্র ফেরত দেয়া হ‌য়ে‌ছে। বিষয়‌টি প‌রিপত্র লংঘন কিনা জান‌তে চাই‌লে তি‌নি জানান, আর অ‌নেক একক কেন্দ্র দেয়া হ‌য়ে‌ছে। নকল বা কোন রকম অ‌নিয়ম হ‌লে কেন্দ্র বা‌তিল করা হ‌বে।

এ বিষয়ে উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ব‌লেন, আমার ও জেলা প্রশাসকের সুপার উলিপুর বহুমুখি ফাজিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্ধারণ করি। কিন্ত ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বোর্ডে তদবির করে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ৩দিন আগে কেন্দ্র পরিবর্তন করে আনেন। এখানে আমরা অসহায়।

আজকালের খবর/বিএস 









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft