শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২৬
৭৫ বছরেও থামেনি বারেকের জীবিকার সংগ্রাম
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ০)
বয়স ৭৫ বছর। শরীরেও বাসা বেঁধেছে নানা রোগব্যাধি। তবুও থেমে নেই জীবিকার সংগ্রাম। প্রতিদিন ভোরে বুকসমান পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ করেন আব্দুল বারেক পাটোয়ারী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে সংগ্রহ করা শাপলা মাথায় নিয়ে ছুটে যান হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে শাপলা বিক্রি করে আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এই সামান্য আয়েই চলে তাঁর সাত সদস্যের সংসার।

এভাবেই বয়সের ভার আর অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেঁচে আছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারকাচারি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারেক পাটোয়ারী।

শাপলার মৌসুমে বিলের পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ করেন তিনি। বছরের অন্য সময় বিল, ক্ষেত কিংবা বাগান থেকে শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। জীবিকার তাগিদে রোদ-বৃষ্টি, কাদা-পানি কোনো কিছুই তাঁকে ঘরে আটকে রাখতে পারে না।

বারেক পাটোয়ারী জানান, প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করেই শুরু হয় তাঁর কর্মব্যস্ততা। এরপর চলে যান বিলে। বুকসমান পানিতে নেমে অনেক কষ্টে শাপলা সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন। গোসল সেরে সেই শাপলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিক্রির উদ্দেশ্যে। কোনো দিন শাপলা, আবার কোনো দিন শাকসবজি বিক্রি করেই চলে তাঁর সংসার।

দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হলেও যাতায়াত খরচ বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ৫০ টাকা। বাকি টাকায় সাত সদস্যের সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর সংসারে রয়েছেন ছেলে, ছেলের বউ, নাতনিসহ মোট সাতজন।

তিনি বলেন, "আমার বড় সংসার। সংসারের ভরণপোষণের দায়িত্ব অনেকটাই আমাকে নিতে হয়। ছেলে আয় করে কিছু টাকা দেয়। তারপরও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ জন্য কষ্ট হলেও শাপলা ও শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করতে হয়। এক মুঠো শাপলার দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা চাই। কিন্তু অনেক সময় ১০ টাকাতেও বিক্রি করতে হয়। এত কষ্ট করে শাপলা সংগ্রহ করেও পরিশ্রমের ন্যায্য দাম পাই না।"

শাপলা সংগ্রহের কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বুকসমান পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে হয়। বয়স হয়েছে, শরীরও আগের মতো চলে না। নানা রোগব্যাধি রয়েছে। তবুও পেটের দায়ে প্রতিদিন পানিতে নামতে হয়।

সরকারি সহায়তা না পাওয়ার আক্ষেপও রয়েছে এই বৃদ্ধের। বারেক পাটোয়ারী বলেন, "সরকারি চাল, বয়স্ক ভাতা কিংবা অন্য কোনো সরকারি সহায়তা কিছুই পাইনি। আগে পাইনি, এখনো পাই না। আমরা কাজ করি, খাই। তবে মাঝে মাঝে কষ্ট হয়, এই বৃদ্ধ বয়সেও আমাকে পরিশ্রম করতে হচ্ছে। অনেক সময় শরীর সায় দেয় না। তবুও পেটের তাগিদে বের হতে হয়। সরকারি চাল ও বয়স্ক ভাতা পেলে কিছুটা সুবিধা হতো। এত কষ্ট করতে হতো না।"

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ওই ব্যক্তি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব






আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft