
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যাফেড (দ্য অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি)। আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য এ উপনির্বাচন সামনে রেখে প্রাক্নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্রচারসামগ্রী অপসারণ, প্রচারে দৃশ্যমানতার বৈষম্য এবং নারী অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যাফেডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণ করা ২৭টি নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে কোনো সহিংসতা দেখা যায়নি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাননি পর্যবেক্ষকেরা। তবে কয়েকজন প্রার্থী ও তাঁদের প্রচার প্রতিনিধিরা পোস্টারসহ নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলা বা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন।
প্রচারসামগ্রী অপসারণ নিয়ে উদ্বেগ
অ্যাফেড জানায়, পর্যবেক্ষণে দুই প্রধান প্রার্থীর প্রচারসামগ্রী তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান ছিল। অন্য প্রার্থীদের প্রচারসামগ্রী কম দৃশ্যমান হওয়ায় প্রচারে সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংস্থাটির কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়া কয়েকজন প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রচারসামগ্রী অপসারণ বা এ-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রচারের স্থান ব্যবহারের অনুমতি পেতে কোনো অসুবিধার কথা জানাননি তাঁরা।
প্রচারে নারীর অংশগ্রহণ কম
পর্যবেক্ষণ করা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে নারীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও বক্তা হিসেবে তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনপরিসরের আলোচনায় নারীদের বক্তব্য, নেতৃত্ব এবং অর্থবহ অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে অ্যাফেড।
এ ছাড়া পর্যবেক্ষণ করা এলাকায় ভোটারদের তথ্য প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। তবে সাক্ষাৎকার দেওয়া নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভোটার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
ছয়টি অভিযোগ জমা
অ্যাফেডের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত সংস্থাটির কাছে ছয়টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর বেশির ভাগই নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী ছিঁড়ে ফেলা বা অপসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাক্ষাৎকার দেওয়া নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করতে পারেনি সংস্থাটি।
অ্যাফেড নির্বাচন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগগুলো সময়মতো, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।
ভোটের দিন ৫২ পর্যবেক্ষক
ভোটগ্রহণের দিন ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকায় ৫২ জন ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করবে অ্যাফেড। তাঁরা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি, ভোটদান, ভোট গণনা এবং ডাকযোগে প্রদত্ত ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিদর্শন করা স্থান ও সময়ের ভিত্তিতে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। তবে এ পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।
অ্যাফেডের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রশাসনের কাছ থেকে মোটামুটি সমান আচরণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বলে মনে করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তাঁরা করেননি।
সংস্থাটি প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের সংযম প্রদর্শন, পরস্পরের অধিকারকে সম্মান এবং প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অভিযোগ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
অ্যাফেড জানায়, তাদের প্রাক্নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের ফলাফল কেবল পর্যবেক্ষণ করা এলাকা, অনুষ্ঠান এবং সাক্ষাৎকারদাতাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রযোজ্য। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যাফেডের এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি সহায়তা দিচ্ছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব