
"আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। ভবিষ্যতে আমাদের মতো যেন কাউকে এই শিশু বয়সে বাবা হারা হতে না হয়..."—কুমিল্লার দেবীদ্বারে বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে দিনমজুর সহিদুল ইসলাম হত্যা এবং ৫ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে এভাবেই আকুতি জানায় নিহত সহিদুলের ৯ বছরের শিশু কন্যা সাদিয়া আক্তার।
রবিবার (১৮ অক্টোবর ) সকাল ১১টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরের 'স্বাধীনতা স্তম্ভের' পাদদেশে ভূমিহীন সংগঠন ও এলাকাবাসীর যৌথ আয়োজনে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়।
ভূমিহীন সংগঠনের নেতা আব্দুল ওয়াদুদ’র সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর, নিহত দিনমজুর সহিদুল ইসলামের স্ত্রী নারগিস আক্তার (৩৫), নিহতের ছেলে ইমন (১৬), শিশু কন্যা সাদিয়া আক্তার (৯), এবং ভূমিহীন নেতা লিল মিয়া, তজু মিয়া ও রমিজ উদ্দিন প্রমুখ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী নারগিস আক্তার বলেন, “আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে জীবন ভিক্ষা চাইলেও তাঁরা রক্ষা করেনি। এখন আমি এই এতিম ও অবুঝ শিশুদের নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকব?”
নিহতের ছেলে ইমন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “বাবার হত্যার বিচার চাইতে থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরবর্তীতে মামলা নিলেও প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলাও গ্রহণ করা হয়, যেখানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না এমন নিরীহ লোকদেরও আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি নিশাদ এখনও মামলা তুলে নিতে আমাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর বলেন, দেবীদ্বারে একের পর এক হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটছে। অভিযুক্তদের অনেকেই গ্রেপ্তার এড়িয়ে উল্টো বাদীপক্ষকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই অপরাধীরা এমন সুযোগ পাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর উপজেলার বারুর গ্রামে বাঁশ কাটা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লিমন, লিমনের ভাই নজরুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলামের ছেলে নিশাদের হামলায় দিনমজুর সহিদুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় আসামিদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছে। অন্যদিকে, গত ৫ আগস্ট উপজেলার কুরুইন গ্রামে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠলেও অভিযুক্ত এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “দিনমজুর সহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ৫ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব