আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে রং-তুলরি অপরূপ সৌন্দর্যের আঁচড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের কারিগররা। সনাতন ধর্মালম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাৎসব। দুর্গাপূজা সুন্দর সুষ্ঠু ও মনোরম পরিবেশে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তায় র্যাব পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রাখবে বলে জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
দেবীকে দৃষ্টিনন্দন রূপ দিতে দিন রাত রং তুলির মাধ্যমে হাতের নিখুঁত কারুকার্যের কাজ করে যাচ্ছেন মৃৎ শিল্পরা। কাদামাটি, খড়,বাঁশ, কাঠ ও সুতলি, দিয়ে দেবী দুর্গার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন প্রতিমা। ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জের প্রতিমা তৈরীর অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ।
এখন দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে দিনরাত রং তুলির কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষী,কার্তিক,গনেশ ও অসুরকে রুপ চর্চায় সাজিয়ে তুলছেন কারিগররা।
তবে দেবী দুর্গাকে নানা রঙ্গে রাঙ্গাতে প্রতিমা তৈরীর উপকরণ এর দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় ন্যায্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানালেন প্রতিমা তৈরীর কারিগর সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের গারদহ পোদ্দার পাড়া গ্রামের শ্রী সুশীল পোদ্দার এর ছেলে শ্রী কানাই পোদ্দাদ।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে মধ্যে ১২টি প্রতিবার অর্ডার পেয়েছি সেই কাজ বর্তমান চলমান রয়েছে। প্রতিটি প্রতিমা সেট নিম্নে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বছরে একবার প্রতিমা তৈরি করে যে লাভ হয় তাই দিয়ে আমাদের সংসার চলে। লাভ লস এর মধ্য দিয়েও বাপ দাদার ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। তবে গতবার ১০টি প্রতিমার অর্ডার ছিল কিন্তু এবারে প্রতিমার অর্ডার পেয়েছি ১২টির। মাটি. বাঁশ. খর. সুতলী রং তুলির দাম বেড়ে যাওয়ায় তুলনামুলকভাবে লাভ কম।
জেলার ৯টি উপজলোর প্রায় ৫৫৭ টি পূঁজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাৎসব পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা ।
পুঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন - আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুঁজা উদযাপনে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সকল ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করছি। শান্তিপূর্ণভাবে পূঁজা উদযাপনে হিন্দু, মুসলিম ভাইদের সৌহার্দ্য ভালবাসায় ঐক্যমত গড়ে তুলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় গতবারের চেয়ে এবারে আনন্দঘন পরিবেশে পূঁজা উদযাপন সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম (বার) জানান, পূজায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । প্রতিটি পূজা মন্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন, র্যাব ও পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থা আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক পূঁজা মন্ডপে নজরদারি রাখবে।
আজকালের খবর/বিএস