প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম (ভিজিট : ১২)
দার-ই-নিজাত সিরিয়ালের পোস্টার
পাকিস্তানের এআরওয়াই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে উদর্ুু ভাষায় উমরে আহমেদের চিত্রনাট্য এবং শাকিব খান পরিচালিত ‘দার-এ-নিজাত’ ইউটিউব সিরিয়াল। ইতিমধ্যে এর ২০তম পর্ব প্রচারিত হয়েছে। সিরিয়ালটি এ পর্যন্ত ১১০ মিলয়ন ভিউজ দশ মিলিয়ন, যা এর জনপ্রিয়তাকে প্রমাণ করে। এতে অভিনয় করেছেন হালে টেলিভিশন-ইউটিউব মিডিয়ামের সবচেয়ে সুন্দরী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী দুঁরেফিশান সালিম। সিরিয়ালটি প্রচারিত হওয়ার পর আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার তীরও এসেছে। আর এ নিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রামে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী। দেশটির জনপ্রিয় ইংরেজি অনলাইন দ্যা ডন তা প্রকাশ্যে এনেছে।
ইনস্টাগ্রামে নিজের মতামত জানিয়ে দুঁরেফিশান লিখেন— “এই গল্পটি নারীদের এটা বলার জন্য নয় যে তারা নিজেরা সেরে উঠতে বা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বা উচিত নয়; বরং এটি পরিত্রাণ বা ভুল শুধরে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত দ্বিমুখী আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একজন পুরুষ কত সহজেই ভুল করতে পারেন, ক্ষমা চাইতে পারেন এবং নতুন সুযোগ পেতে পারেন—অথচ নারীদের ক্ষেত্রে প্রায়শই প্রত্যাশা করা হয় যে তারা যেন তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ভার দীর্ঘ সময় ধরে বয়ে বেড়ান।”
তিনি আরও বলেন, “কখনও কখনও কোনো গল্প দেখার সেরা উপায় হলো এটিকে কেবল কারও জীবনের একটি ঘটনা হিসেবে দেখা। কোনো চরিত্রের আবেগের গভীরতা বুঝতে বা তাদের যাত্রার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হলে যে সেই চরিত্রের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই।” তিনি উল্লেখ করেন যে মানুষ স্বভাবগতভাবেই জটিল এবং সবকিছুকে সবসময় ‘নৈতিকভাবে সঠিক’ কোনো ছাঁচে নিখুঁতভাবে ফেলতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
আরেকটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সালিম এমন একটি পোস্ট শেয়ার করেন যেখানে বলা হয়েছে যে, ‘দার-এ-নিজাত’ হলো একজন নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প—কোনো পুরুষের সাথে সম্পর্কের গল্প নয়।
সাথে লেখা ক্যাপশনে সালিম বলেন, “কখনও কখনও নিজেকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টিই হয়ে ওঠে সেই প্রেমের গল্প, যার প্রয়োজন আপনার সবসময়ই ছিল।”
দুঁরেফিশান
প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা যায়, ‘দার-এ-নিজাত’-এর সাম্প্রতিক পর্বগুলো মূলত প্রধান চরিত্র ‘জারইয়াব’-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও ছোটবেলার ভালোবাসার মানুষ জামিল (নামির খান অভিনীত চরিত্র)-এর দ্বারা প্রতারিত ও পরিত্যক্ত হওয়ার ফলে জারইয়াব তীব্র উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
১৪ ও ১৫ নম্বর পর্বে জারইয়াবকে প্যানিক অ্যাটাক বা তীব্র আতঙ্কের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যায়। তার পরিবার তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। পরবর্তীতে যখন তার সম্ভাব্য ভালোবাসার মানুষ আবু বকর (অভিনেতা শেহেরিয়ার মুনাওয়ার অভিনীত চরিত্র) সেখানে উপস্থিত হন এবং পবিত্র কুরআনের আয়াত পড়ে এক গ্লাস পানিতে ফুঁ দিয়ে আলতোভাবে তাকে তা পান করতে সাহায্য করেন, কেবল তখনই সে উঠে দাঁড়াতে ও হাঁটতে সক্ষম হয়। দেখা যাচ্ছে, নাটকটির একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য কিছু দর্শকের কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি; তাদের মতে, নাটকটি একটি সমস্যাজনক বার্তা দিচ্ছে—আর তা হলো, হৃদয়ভঙ্গের শিকার নারীদের সেরে ওঠার বা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য একজন পুরুষের সহায়তার প্রয়োজন।
এক ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন যে, জারিয়াবের চরিত্রের আসলে থেরাপি বা মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন—কোনো পুরুষের নয়।
আরেকজন মনে করেন, নাটকটি নারীদের পুরুষ কর্তৃক ‘উদ্ধার’ হওয়ার বিষয়টিকে রোমান্টিক বা আকর্ষণীয় করে তুলে ধরছে। তার যুক্তি হলো, মানুষকে নিজের ক্ষত সারিয়ে তোলার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, আবু বকরের জারিয়াবকে ‘বাঁচাতে আসা’র বিষয়টি অবাস্তব।
তবে সালিম যেমনটি উল্লেখ করেছেন, মূল বিষয়টি তা নয়। বরং নাটকটি এই বিষয়টির ওপর আলোকপাত করছে যে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের জন্য ধর্মীয় পথে ফিরে আসার বা প্রায়শ্চিত্তের পথটি কতটা কঠিন।
একদিকে রয়েছে জারিয়াব, যে তার জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছে; কারণ বিয়ের আগে জামিলের সঙ্গে বসবাসের বিষয়টি তাকে অপরাধবোধে নিমজ্জিত করে রেখেছে। অন্যদিকে রয়েছে জামিল, যে ধর্মপথে ফিরে আসার পরপরই নিষ্ঠুর ও দ্রুত জারিয়াবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তার দাবি ছিল, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার অধিকার কেবল তার-ই আছে, জারিয়াবের নয়। কোনো রকম আত্মবিশ্লেষণ ছাড়াই সে এমন একজনকে বিয়ে করে যাকে সে নিজের জন্য উপযুক্ত ও ধার্মিক সঙ্গী বলে মনে করেছিল; আর শেষ দুটি পর্বের কথোপকথন থেকে বোঝা যায়, শীঘ্রই সে তার পরিবারের সঙ্গে পুনরায় বসবাস করতে পারবে।
এরই মধ্যে জারিয়াব গভীর হতাশায় নিমজ্জিত এবং নিজের জীবনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবছে। সে সামনে এগোতে পারছে না, এমনকি অন্য কাউকে বিয়ে করার কথাও ভাবতে পারছে না; কারণ তার মনে হচ্ছে, জামিলের তুলনায় তার পাপ অনেক বেশি গুরুতর।
দুঁরেফিশান-এর কোলাজ
সালিমের মতে, নারী ও পুরুষের মধ্যে এই অপরাধবোধ এবং পরবর্তী আত্ম-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যে অসামঞ্জস্য বা পার্থক্য দেখা যায়, সেটাই হলো এই গল্পের মূল বিষয়বস্তু।
প্রসঙ্গত, দুঁরেফিশান সেলিম লাহোরে জন্ম নেওয়া একজন পাকিস্তানি উর্দভাষী অভিনেত্রী। লন্ডন থেকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে হাম টিভির কমেডি-ড্রামা ‘দিল রুবা’ (২০২০)-তে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে রোমান্টিক-পারিবারিক নাটক ‘ভারাস’ (২০২০)-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। বিয়োগান্তক রোমান্টিক সিরিজ ‘ক্যায়সি তেরি খুদগারজি’ (২০২২), হালকা মেজাজের সিরিজ ‘ইশক মুরশিদ’ (২০২৩) এবং ‘সাঁওয়াল ইয়ার পিয়া’ (২০২৫)-তে অভিনয়ের সুবাদে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।