ভার্সেটাইল মিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে ‘নসীব’। টেকনাফে প্রথম লটের কাজ। নির্মাতার প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আরশাদ আদনানসহ ইউনিটের কলাকুশলীরা। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
দেশের অবস্থা অনুকূলে থাকায় পুরোদমে সিনেমা প্রযোজনায় ফিরছেন বাণিজ্যিক ধারার অন্যতম সফল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ভার্সেটাইল মিডিয়ার কর্ণধার আরশাদ আদনান। ‘প্রিয়তমা’র সফল যাত্রা সংস্থাটিকে এনে দিয়েছে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলের পরিচিতি। সে ধারায় এবারে সংস্থাটি দুটো সিনেমা প্রযোজনার ঘোষণা দিয়ে ইতিমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। একটিতে তারকা অভিনেতা শাকিব খান ও বিদেশি নায়িকার রসায়নে ‘মহব্বত’, যেটি হিমেল আশরাফ পরিচালনা রয়েছেন।
অপরটির দায়িত্ব আছেন মো. ইকবাল। ছবির নাম ‘নসীব’। ইতিমধ্যে টেকনাফে প্রথম লট শুটিংও হয়েছে। তবে এ সিনেমায় মূল অভিনয় শিল্পী কারা আছেন তা এখনই প্রকাশ করছেন না প্রযোজক কিংবা পরিচালক। তবে সংস্থার কর্ণধার অনেক দিন থেকেই একজোরা নতুন মুখ খুঁজছেন, যারা শাকিব নির্ভরতা কাটিয়ে ইন্ডাস্ট্রির আলোকবর্তিকা হতে পারেন। তেমন আশা নিয়ে একজোরা নতুন মুখ দেখা যাবে ‘নসীব’-এ।
ছবি অ্যাকশন ধাঁচের হবে বলে গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ্যে এসেছে। ‘নসীব’ শিরোনামের এই সিনেমার একটি পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে নতুন এই প্রজেক্টের কথা। প্রযোজক আরশাদ আদনান নিজেও একাধিক ওয়ার্কিং স্টিল ফেসবুক পোস্ট করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যায়, সমুদ্র তীরবর্তী একটি কাঠের জেটিতে পাশাপাশি বসে থাকা এক জুটির নীরব মুহূর্ত। রাতের চাঁদের আলো ও আবহে তৈরি করা হয়েছে একটি আবেগঘন পরিবেশ, যা সিনেমার গল্পে রোমান্স ও গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।
জানা গেছে, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত ও পাহাড়ি লোকেশনে নতুন জুটিকে নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং করেছেন পরিচালক। তবে গল্পের খাতিরে ও দর্শকদের চমক ধরে রাখতে জুটি এবং মূল কাস্টিং নিয়ে এখনো এক ধরনের রহস্য জিইয়ে রেখেছে সংশ্লিষ্টরা। সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা বাপ্পারাজ। বিদেশি অভিনয়শিল্পীরা রয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে পরিচালক ইকবাল জানিয়েছেন। প্রযোজনা সংস্থা বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গল্পের প্রয়োজনে আপাতত শিল্পীদের নাম প্রকাশ করছি না। তবে দর্শক নতুন কিছু পেতে যাচ্ছেন। আসন্ন রোজার ঈদে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভার্সেটাইল মিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে ‘নসীব’। টেকনাফে প্রথম লটের কাজ। নির্মাতার প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আরশাদ আদনানসহ ইউনিটের কলাকুশলীরা। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
বিগ বাজেটের এই সিনেমাটিতে আধুনিক কারিগরি প্রযুক্তি ও দারুণ সব অ্যাকশন সিকোয়েন্স ব্যবহার করা হচ্ছে এমনটাই দাবি পরিচালক ইকবালের। ঈদকে টার্গেট করেই ‘নসীব’ সিনেমার নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তেমনটা হলে আগামী দুই ঈদ ভার্সেটাইল মিডিয়ার দখলে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- মেগাহিট ‘প্রিয়তমা’র মাধ্যমে ক্যারিয়ার ফিরে পাওয়া শাকিব তার পারিশ্রমিক তিনগুণ বাড়ালে পরবর্তী সিনেমার নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে বহুগুণ। সে হিসেবে এই অভিনেতা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও দরদ, তান্ডব, প্রিন্স, রকস্টার সিনেমা ফ্লপ তকমা নিয়ে প্রযোজকদের মাথায় হাত পড়েছে। যার প্রমাণ মেলে প্রিন্স সিনেমার প্রযোজেকর অভিযোগে। যদিও কতিপয় গণমাধ্যমে শাকিবের সিনেমাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোতেই বাহাদুরী ভাবেন। বাস্তবতার পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। এ অবস্থায় প্রযোজক আরশাদ আদনান কি শাকিবকে নিয়ে ঝুঁকি নিলেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে। অপরদিকে, শাকিবের ওপর কিছুটা আস্থার সংকট আছে বলেই নতুনদের সুযোগ দিচ্ছেন আদনান এমনটাই ধারণা করছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। যদিও তারা শাকিব ফুরিয়ে গেছেন এমনটা বলতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, যেভাবেই হোক বড় প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে নতুন প্রতিশ্রুতিশীল মুখ দরকার, একা শাকিবের কাঁধে আর কত? সে হিসেবে প্রযোজনা সংস্থার এই সাহসী উদ্যোগের পাশে সবার ইতিবাচক থাকা প্রয়োজন।
শাকিবকে নিয়ে ‘মহব্বত’ হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাওয়ার সুযোগ থাকবে, নতুন মুখ নিয়ে রোজার ঈদে ‘নসীব’ আভ্যন্তরীন বাজারের প্রতিযোগিতায় নামবে। সফল বা ব্যর্থ হিসেব কষার আগে ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মেগাহিট সিনেমা ‘নসীব’কে বোদ্ধারা সামনে আনবেন। কারণ প্রয়াত গুণী নির্মাতা মমতাজ আলী নির্মিত ওই সিনেমাটি আটোসাঁটো চিত্রনাট্য আর সংলাপের জন্য বহুল প্রশংসিত, ইকবাল এ জায়গায় তার সামর্থের কতটুকু প্রয়োগ করতে পারবেন সেটাই বড় প্রশ্ন। যদিও ‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমায় নির্মাতা হিসেবে ইকবাল প্রশংসিত হন।