সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মনাই নদীর নোয়াগাঁও গ্রামের সামনে প্রশাসনের কোনো ধরনের লিখিত অনুমতি ছাড়াই দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠায় নদীপারের বসতবাড়ি ও বোরো ধানের জমি মারাত্মক ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫-২০ দিন ধরে মনাই নদী থেকে দুটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালি তোলা হচ্ছে। উপজেলার মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মধ্যনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য এনামুল হক (৩৫) এবং একই উপজেলার কাকরহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদ মিয়া (৩৬)—এই দু’জন প্রকাশ্যে লোক নিয়োজিত করে দাপটের সঙ্গে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তাদের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নোয়াগাঁও গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালী মহল প্রকাশ্যে বালি উত্তোলন করায় ভয়ে কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী দুই পাড়ের বসতবাড়ি ও বোরো ফসলি জমি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা এনামুল হক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শহিদ মিয়া মনাই নদী থেকে বালি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, তাদের নাম ভাঙিয়ে অন্য কেউ এই অবৈধ কাজ করছে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুসাহিদ তালুকদার বলেন, আগে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করা হলেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হলে নদীর দুই পাড়ের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়বে। যেকোনো প্রভাবশালী মহল আইন অমান্য করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করলে প্রশাসনিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম শাহাবুদ্দিন বলেন, আমার জানা মতে মধ্যনগর এলাকায় কোনো ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করা হয় না। যদি কেউ অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় জানান, মনাই নদী থেকে বালি উত্তোলনের জন্য প্রশাসন থেকে কাউকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে প্রশাসনিকভাবে তা নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও যদি বালি উত্তোলন করা হয়, তবে দুটি ড্রেজার মেশিন ও নৌকা জব্দ করে অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব