ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকার আশুলিয়ার মো. ইদ্রিস আলী (৪০) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত ইদ্রিস আলীকে আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
গ্রেপ্তার ইদ্রিস আলী ঢাকার আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী আহমেদের ছেলে। তিনি থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. শরীফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, একাধিক হত্যা মামলা থাকার কারণে ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিলো।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইদ্রিস আলী তার ছোট বোন ও ভাগিনাকে সাথে নিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য আখাউড়া আর্ন্তজাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। এ সময় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকার আশুলিয়া থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। পরে তাকে আটক করা হয়। তাকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে তার সাথে থাকা বোন ও ভাগিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায়, তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের তথ্যসহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ আছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম জানান, আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ ইদ্রিস আলীকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে অবহিত করেছি। আশুলিয়া থানার পুলিশ আসার পর তাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যার ঘটনায় ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আখাউড়া ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া নিচ্ছি।
আজকালের খবর/বিএস