সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট মঠের চকে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কৃষকের চাষাবাদে ব্যবহৃত দুটি পাওয়ার ট্রিলার পুকুরে ফেলে দিয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক প্রকাশ চন্দ্র মণ্ডল বাদী হয়ে একই এলাকার জগদীশ মণ্ডল, জয়দেব মণ্ডল, প্রদীপ মণ্ডল ও মিলন মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সাথে প্রকাশ মণ্ডলের পূর্বে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা (সিআর ২২৭/২৫) চলমান রয়েছে। সেই মামলার জের ধরেই আসামিরা তার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করছিল।
ঘটনার রাতে প্রতিদিনের মতো স্ত্রী দীপালির সঙ্গে পাওয়ার ট্রিলার নিয়ে বিলে চাষাবাদ করতে গিয়ে প্রকাশ দেখতে পান, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ট্রিলারের যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গাড়ি দুটি দুটি আলাদা পুকুরে ফেলে দিচ্ছে। ভয়ের কারণে তারা কাছে ভিড়তে না পারলেও পরদিন ২০ আগস্ট সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে পাওয়ার ট্রিলার দুটি উদ্ধার করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রকাশ মণ্ডল জানান, কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা ট্রিলার দিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী মিলে চাষাবাদ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার ফলে তার অন্তত ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং পাওয়ার ট্রিলার অকেজো হওয়ায় বিলের অন্যান্য কৃষকরাও চাষাবাদ বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম। তবে অভিযুক্তদের পক্ষে জগদীশ মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, চলমান মামলাকে ঘিরে তাদেরকে নতুন করে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব