ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন মারা গেছেন। আজ শনিবার ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কর্মকর্তা ফাতুর রহমান এএফপিকে জানান, পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় ফ্লোরেস দ্বীপের চারটি শহরে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে, নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ঘুমের সময় ভবন বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বিএনপিবি প্রাথমিকভাবে একজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।
ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
রয়টার্সের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা রিজেন্সির প্রধান শহর মাউমেরেতে একটি ভবনের অংশ ধসে ধুলো ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসেন।
পূর্ব নুসা তেংগারার তালিবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা বলেন, ‘ভূমিকম্পটি ছিল ভয়াবহ। কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আমরা সবাই বাইরে বেরিয়ে আসি। ঘরের ভেতর সেমময় ১৩ জন ছিলাম। সবাই নিজেদের বাঁচাতে দৌড়ে বেরিয়ে যাই।’
বিএনপিবি জানিয়েছে, পূর্ব নুসা তেংগারা, পশ্চিম নুসা তেংগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির কিছু এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় প্রায় এক মিনিট ধরে কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কিত হয়ে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
পূর্ব নুসা তেংগারার এন্দে জেলার একটি হাসপাতালে ভূমিকম্পের পর রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া, অন্তত একটি এলাকায় ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-প্রকৌশল সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে। এরপর বেশ কয়েকটি আফটারশক হয়।
বিএনপিবি জানিয়েছে, নাজেও জেলার প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় যানজট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটেরও খবর পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, সমুদ্রের তলদেশে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা ভূখণ্ডগুলোতে সুনামির কোনো হুমকি নেই।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। পৃথিবীর ভূত্বকের বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এই অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
আজকালের খবর/এমকে