অভিবাসী শ্রমিক অধিকারকর্মী অ্যান্ডি হলকে মানহানির দুটি মামলায় মোট ৫ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা করেছেন মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু হাইকোর্ট। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেওয়া রায়ে বিচারিক কমিশনার নোরাদুরা হামজা বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এমবুন কারিসমা রিসোর্সেসের পরিচালক আর. মুথুসামির দায়ের করা মামলায় তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলার শুনানির সময় অ্যান্ডি হল আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি।
মুথুসামির পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী জি.কে. শ্রীথারণ ও চাই ই ন্গ। প্রায় চার বছর আগে দায়ের করা দুটি মামলা একসঙ্গে শুনানি করা হয়। বাদীপক্ষের একমাত্র সাক্ষী ছিলেন মুথুসামি।
রায়ের মৌখিক পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, মুথুসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক বেশি অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত অ্যান্ডি হলকে আরও ১ লাখ রিঙ্গিত মামলা খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের পত্রিকায় এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে মুথুসামির কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
মুথুসামির অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পরও অ্যান্ডি হল ‘সি ইউ ইন কোর্ট: হল ডেয়ার্স লাইবল ক্লেইম্যান্ট ইন ডাইসন ফোর্সড লেবার কনট্রোভার্সি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আবারও মানহানিকর মন্তব্য করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘ফোকাস মালয়েশিয়া’য় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
মামলার নথিতে মুথুসামি দাবি করেন, অ্যান্ডি হলের ই-মেইল এবং ফোকাস মালয়েশিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার সম্পর্কে করা বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এসব বক্তব্য ছিল ‘চাঞ্চল্যকর, কেলেঙ্কারিপূর্ণ, আপত্তিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ’। এর মাধ্যমে তাকে অবৈধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মামলায় আদালতের এ রায়ের ফলে অ্যান্ডি হলকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, মামলা খরচ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও পালন করতে হবে।
আজকালের খবর/এমকে