ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বগুড়ায় দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণ সভা, দোয়া মাহফিল, খাবার বিতরণ, আলোকচিত্র, ভিডিও প্রদর্শনী, শহীদ পরিবার ও সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জেলা প্রশাসন। শহীদ স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, জেলা পুলিশ, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র সংগঠন। শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনায় সভায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের অসামান্য অবদান এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। শহীদ খোকন পার্কে পথশিশু, অসহায় নারীদের মাঝে খাবার বিতরণসহ শহীদ টিটু মিলনায়তনে সংবর্ধিত হন জুলাই শহীদ পরিবার ও সম্মুখ সারির যোদ্ধারা।
পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন এমপি, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, বগুড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস, সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা যুবদল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন সোহাগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সরকার মুকুল, শহর যুবদল সভাপতি আহসান হাবিব মমি, সাধারণ সম্পাদক আদিল শাহরিয়ার গোর্কি, জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান, শহর ছাত্রদল সভাপতি এসএম রাঙ্গা, সদর উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি রেদওয়ানুল ইসলাম আকিব প্রমুখ।
এরআগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহীদ খোকন পার্কে প্রথম কর্মসূচি পালন করে জুলাই যোদ্ধারা। স্মৃতিতে অমলিন ৩৬ জুলাই কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আলোকচিত্র, ভিডিও প্রদর্শনী ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাবেক সমন্বয়ক সাকিব খান, আজিম উদ্দিন, জাকিরুল ইসলাম, নাজমুল হাসান নেহাল, ছাব্বির আহম্মেদ রাজসহ সম্মুখ সারির যোদ্ধারা অংশ নেন।
এছাড়াও গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বগুড়ার উদ্যোগে ৩৬ জুলাই স্মৃতি প্রদর্শনী করা হয়। সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন সংগঠনের সভাপতি বজলুর রশিদ সুইট ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে ইবনে সিনা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার।
আজকালের খবর/বিএস