রেলওয়ের খালাসি পদে আদালতের রায় বাস্তবায়নে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং- ১৪৫০২/২০১৯ ও ৭২৩৭/২০১৯ এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিপিএলএ নং- ২৪৭৫/২০২৪ ও ২৪৭৬/২০২৪-এর রায় যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে একটি কুচক্রী মহলের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার ২ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং- বাঃ রেঃ (পূর্ব)-১/২০১০, তারিখ ২৪/১০/২০১০-এর ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণের প্রায় পাঁচ বছর পর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, বিতর্ক, নাটকীয়তা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ১১ মে ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত ফলাফলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং অভিযোগ রয়েছে যে তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ প্রভাব ও ইন্ধনে উক্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্য পোষ্য প্রার্থীগণ পোষ্য কোটার আওতায় আবেদন করেও অন্যায্যভাবে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। ফলে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি অধিকার বঞ্চিত পোষ্যদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন, সংগ্রাম এবং আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনকারী রেলওয়ে পোষ্যদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
পরবর্তীতে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলের অনুমতির আবেদনও মহামান্য আপিল বিভাগ কর্তৃক খারিজ হয়ে যাওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের রায় চূড়ান্ত আইনগত ভিত্তি লাভ করে। ফলে বর্তমানে উক্ত রায় বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশ রেলওয়ের আইনগত, সাংবিধানিক, নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
মহামান্য আদালত তার রায়ে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছেন—
“The respondents are directed to issue the appointment letters after maintaining the quota in favour of the eligible petitioners on being satisfied that they are not otherwise disqualified.” অর্থাৎ, প্রতিপক্ষগণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যোগ্য আবেদনকারীদের অনুকূলে পোষ্য কোটা সংরক্ষণপূর্বক নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে, যদি তারা অন্য কোনো বৈধ কারণে অযোগ্য না হন।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে আদালত তিনটি মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করেছেন—
১। পোষ্য কোটা সংরক্ষণ করতে হবে;
২। যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে;
৩। শুধুমাত্র অন্য কোনো বৈধ কারণে অযোগ্য হলে নিয়োগ প্রদান না করার সুযোগ থাকবে।
অর্থাৎ, আদালতের দৃষ্টিতে যোগ্য আবেদনকারীরা নিয়োগ লাভের অধিকারী। প্রশাসনের পক্ষে নতুন করে অযৌক্তিক শর্ত আরোপ, অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি কিংবা রায়ের বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই। রায়ে আরও বলা হয়েছে—
“Furthermore, if there is any ambiguity regarding the vacant post, the respondents are directed to give appointment letters in favour of the petitioners in future vacant post if they are not disqualified otherwise.”
অর্থাৎ, শূন্য পদসংক্রান্ত কোনো অস্পষ্টতা, প্রশাসনিক জটিলতা বা পদসংখ্যাগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও আবেদনকারীরা অন্য কোনো কারণে অযোগ্য না হলে ভবিষ্যতে সৃষ্ট শূন্য পদে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে।
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নিষ্পত্তিকালে মহামান্য আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেন—
“Considering the facts and circumstances of the case, we find no legal infirmity in the impugned judgment and order calling for interference by this Court.”
অর্থাৎ, হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে কোনো বাস্তবিক বা আইনগত ত্রুটি নেই এবং আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
পরবর্তীতে আপিল বিভাগ আরও বলেন—
“Accordingly, this Civil Petition for Leave to Appeal is dismissed as being devoid of merit.”
অর্থাৎ, আপিলের অনুমতি পাওয়ার মতো কোনো গ্রহণযোগ্য আইনগত ভিত্তি না থাকায় আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে।
এখানে “devoid of merit” শব্দগুচ্ছ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আদালত শুধু আবেদনটি খারিজ করেননি, বরং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, আপিলের অনুমতি পাওয়ার মতো কোনো গ্রহণযোগ্য আইনগত ভিত্তি বা শক্তিশালী যুক্তি আবেদনটিতে ছিল না।
ফলস্বরূপ বর্তমান আইনগত অবস্থান হলো—
১। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায় সম্পূর্ণ বহাল রয়েছে;
২। পোষ্য কোটার বৈধতা ও কার্যকারিতা বহাল রয়েছে;
৩। যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়োগের অধিকার আদালত কর্তৃক স্বীকৃত;
৪। ভবিষ্যৎ শূন্য পদে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনা বহাল রয়েছে;
৫। বাংলাদেশ রেলওয়ের দায়েরকৃত আপিলের অনুমতির আবেদন চূড়ান্তভাবে খারিজ হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
“We find no legal infirmity in the impugned judgment and order.”
এই একটি বাক্যই প্রমাণ করে যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে কোনো আইনগত বা বাস্তবিক ত্রুটি খুঁজে পায়নি। ফলে উক্ত রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে আর কোনো আইনগত সংশয়ের অবকাশ নেই।
রেলওয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম রায় বাস্তবায়নের পক্ষে
উল্লেখ্য যে, আদালতের রায় চূড়ান্তভাবে বহাল থাকার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজেই রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ের মামলা পরিচালনাকারী প্যানেল আইনজীবী জনাব মোঃ আক্তারুজ্জামান, মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা রায়ের বিষয়ে তার আইনগত মতামত প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ে, সিআরবি, চট্টগ্রামের আইন কর্মকর্তা মো. আল মাহমুদ রায়ের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চীফ পার্সোনেল অফিসার (পূর্ব), বাংলাদেশ রেলওয়ে, সিআরবি, চট্টগ্রাম জোবেদা আক্তার প্যানেল আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তার মতামতের আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ০৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ে, রেলভবন, ঢাকার মহাপরিচালকের কার্যালয়ের পার্সোনেল-৩ শাখার উপ-পরিচালক রাসেল আলম, রেলওয়ের প্যানেল আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তা (পূর্ব)-এর মতামতের আলোকে রায়ের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে পত্র জারি করেন।
উপরোক্ত ধারাবাহিক প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজেই আদালতের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত মতামত গ্রহণ করে এবং সেই মতামতের ভিত্তিতেই নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
যাচাই-বাছাই কমিটির বিলম্ব ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতাঃ
উক্ত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আদালতের রায় বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে একটি নিয়োগ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আবেদনকারী রেলওয়ে পোষ্যদের নিকট থেকে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্যাদি ও প্রমাণক গ্রহণ করে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র গ্রহণের পরও সাত (৭) মাস অতিবাহিত হলেও কমিটি নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারার কারণ অনুসন্ধান করলে উঠে আসে নিয়োগ আটকানোর জন্য একটি ষড়যন্ত্রকারী চক্রের ষড়যন্ত্র।
পরবর্তীতে বিদ্বেষমূলক ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র রুখতে আবেদনকারীরা তাদের পিতা/মাতার পেনশন বইয়ের ফটোকপি, পোষ্য সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি জমা দেওয়ার পরও বারবার নতুন নতুন তথ্য ও কাগজপত্র চাওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুনরায় প্রদান করা হয়।
শূন্য পদ ও নিয়োগের বাস্তব সুযোগঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগে অবসর, পদোন্নতি, মৃত্যুজনিত কারণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে নিয়মিতভাবে শত শত খালাসি পদ শূন্য হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে খালাসি পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শূন্য পদ বিদ্যমান রয়েছে।
ফলে বর্তমান পদসংখ্যা নিয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভবিষ্যৎ শূন্য পদে আবেদনকারীদের নিয়োগ প্রদানের বাস্তব সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে। মহামান্য আদালতও এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যৎ শূন্য পদে আবেদনকারীদের নিয়োগের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
আদালতের রায়ের তালিকা, রেলওয়ের ইস্যুকৃত ভাইভা কার্ড, পোষ্য সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়োগে কোনো বাধা নেই।
এমতাবস্থায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আইনানুগ যুদ্ধের পরে নিয়োগ যাচাই-বাছাই কমিটির সকল সদস্যদের গত ০৭ জুন ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনের আলোকে ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে জিএম (পূর্ব) পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য রেলওয়ে মহাপরিচালকের নিকট নথি উপস্থাপন করেন। রেলওয়ে মহাপরিচালক যাচাই-বাছাই কমিটির এবং জিএম-এর প্রেরিত নথির আলোকে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে কমিটির আংশিক রিপোর্ট গ্রহণ করেন এবং অফার লেটার প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন, পাশাপাশি অবশিষ্ট পিটিশনারদের রিপোর্ট প্রদানের জন্যও নির্দেশ দেন।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, আইনানুগ সফলতা এবং রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে যাচাই-বাছাই কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদানকারী ৯৯ জন পিটিশনারগনের মধ্যে ৬৬ পিটিশনারকে গত ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে নিয়োগ কমিটি অফার লেটার প্রদান করে , যার মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিনের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পান। যাচাই-বাছাই কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদানকারী অবশিষ্ট পিটিশনার এবং অপেক্ষারত অন্যান্য পিটিশনারগণও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির প্রহর গুনছেন।
চট্টগ্রামের নিয়োগ বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট কিছু সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে এই নিয়োগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ প্রতিবেদন প্রচার করছে।
আদালতের রায় অনুযায়ী পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনানুগভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির বিরুদ্ধে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত পোষ্যদের বিরুদ্ধে একটি নিয়োগ বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট নিয়োগ কমিটি, জিএম এবং রেলওয়ে মহাপরিচালককে বিতর্কিত করতে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তারই ধারাবাহিকতায় কিছু দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
আমরা তাদের এই মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের অপ-সাংবাদিকতা অব্যাহত থাকলে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি এবং পিটিশনারগণ কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। কারণ নিয়োগ কমিটির সদস্য, জিএম, রেলওয়ে মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে এবং পিটিশনারদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাদের পুনরায় বেকারত্বের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এবং রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সম্মানহানি ঘটানোর অপচেষ্টা চালানো হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ থাকবে না।
আজকালের খবর/বিএস