শনিবার ● ৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রয়াত হলেন ‘দ্য থ্রি স্টুজেস’ অভিনেতা মো হাওয়ার্ডের ছেলে পল
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ পিএম   (ভিজিট : ১০)
মনে পড়ে বিখ্যাত মার্কিন সিরিজ ‘দ্য থ্রি স্টুজেস’-এর কথা। সিরিজের অন্যতম প্রাণভোমড়া ছিলেন মো হাওয়ার্ড। ১৯৭৭ সালে ৭৭ বছর বয়সে বিখ্যাত এই কমেডি অভিনেতা না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার ছেলে পল হাওয়ার্ড অভিনয় আঙিনায় পা রাখেন এবং দর্শকপ্রিয়া লাভ করেন। এই অভিনেতা ৯১ বছর বয়সে বাবার পথে পাড়ি জমিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। তিনি তার স্ত্রী জোয়ান এবং মেয়ে জেনিফারকে রেখে গেছেন।

পল হাওয়ার্ড আজীবন তাঁর বাবার রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের একজন অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন কনভেনশন ও অনুষ্ঠানে তিনি ‘দ্য থ্রি স্টুজেস’-এর ভক্তদের বিভিন্ন প্রজন্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁদের কাছে নিজের বাবার জীবনের নানা ব্যক্তিগত গল্প, পারিবারিক স্মৃতি ও অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন।

২০১৫ সালে পল হাওয়ার্ড ‘হে মো, হে ড্যাড!’ (Hey Moe, Hey Dad!) শিরোনামের একটি তথ্যচিত্র সিরিজের উপস্থাপনা করেন। নয় পর্বের এই সিরিজে ‘দ্য থ্রি স্টুজেস’-এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এতে আর্কাইভ থেকে নেওয়া ফুটেজ, পারিবারিক বিবরণ এবং মো হাওয়ার্ড, ল্যারি ফাইন, কার্লি হাওয়ার্ড, শেম্প হাওয়ার্ড ও কার্লি জো ডি-রিটার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘সি৩ এন্টারটেইনমেন্ট, ইনকর্পোরেটেড’ (ঈ৩ ঊহঃবৎঃধরহসবহঃ, ওহপ.) দ্বারা প্রযোজিত ও পরিবেশিত এই সিরিজটি বর্তমানে ইউটিউবে ‘দ্য থ্রি স্টুজেস+’ (C3 Entertainment, Inc.) চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে। সিরিজটিতে উপি গোল্ডবার্গ, বিলি ওয়েস্ট এবং লিওনার্ড মালটিনের মতো বিখ্যাত ভক্তদের সাক্ষাৎকারও যুক্ত করা হয়েছে।

পল হাওয়ার্ডের বোন জোয়ান হাওয়ার্ড মাউরের লেখা বই ‘গ্রোয়িং আপ স্টুজ’ থেকে একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন পল হাওয়ার্ডের ভাইঝি টেসা মাউরার, যেখানে পল হাওয়ার্ডের জন্মের প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে-

“বাবা [মো] সবসময়ই একটি ছেলে সন্তান চাইতেন—এমন কাউকে, যাকে তিনি মাছ ধরতে নিয়ে যেতে পারবেন বা যার সঙ্গে বেসবল খেলতে পারবেন। ১৯৩৪ সালের শেষের দিকে, মা যখন বাবাকে জানালেন যে তিনি গর্ভবতী, তখন বাবা রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘প্রিয়তমা, যদি ছেলে হয়, তবে আমাকে হয়তো নর্দমা থেকে টেনে তুলতে হবে—কারণ খুশিতে আমি এতটাই মদ্যপ হয়ে পড়ব!’

মা এমনভাবে তাঁর ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন যেন পল নিউ ইয়র্কের ‘ডক্টরস হসপিটাল’-এ জন্মগ্রহণ করতে পারে। ... ১৯৩৫ সালের ৮ জুলাই—আমার জন্মের আট বছর পর—আমার ভাই পল যখন পৃথিবীতে এল, তখন বাবার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল।

“পুরো সময়টা বাবা ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলেন। পল যেদিন জন্মায়, সেদিন তিনি বোস্টনের মেট্রোপলিটান থিয়েটারে ল্যারি ও কার্লির সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করছিলেন।” মা হাসপাতাল থেকে তাকে একটি টেলিগ্রাম পাঠালেন, যার একাংশে লেখা ছিল: ‘সকাল নয়টা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে আট পাউন্ড ওজনের এক চমৎকার ছেলে হয়েছে। বাজে পথে পা দিও না... ভালোবাসা—হেলেন।’

বাবা, যিনি কখনোই মদ্যপান করতেন না, তিনি তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন। তিনি আমাকে ভালোবাসতেন ঠিকই, তবে ছেলে হয়েছে বলে তার গর্বের সীমা ছিল না। পল আসলে ম্যানহাটনের ইয়র্কভিল এলাকায় জন্মেছিল—ঠিক যে জায়গাটিতে সে আজও বাস করে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, পলের জন্মের সময়কার ঘটনাগুলো একই সঙ্গে ভীতিজনক এবং হাস্যকর হয়ে উঠেছিল। কয়েক দিন পর, মা ও শিশু পলকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসার জন্য বাবা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তার সঙ্গে ছিলেন আমার মায়ের বোন, খালা ক্ল্যারিস—যিনি তখন সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন—এবং আঙ্কেল হ্যারি সাইডেন। ম্যানহাটনে তখন প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল, আর বাবা একটি ভাড়া করা গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছলে গিয়ে একটি উঁচু সিমেন্টের ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়, যার ফলে খুঁটিটি তার ভিত্তি থেকে উপড়ে যায়। খুঁটিটি প্রচণ্ড শব্দে গাড়ির সামনের অংশের (হুড) ওপর আছড়ে পড়ে, গাড়ির উইন্ডশিল্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে এবং বাবাকে আহত করে। কাঁচের টুকরোয় বাবার মুখমণ্ডল কেটে যায় এবং আঘাতের চোটে তার একটি চোখ ফুলে কালো হয়ে যায়। গাড়ির পেছনের আসনে বসে থাকা আমার খালা ও আঙ্কেল অবশ্য বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান।

কী ঘটে গেছে তা উপলব্ধি করার পরপরই বাবা আরও এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন: খালা ক্ল্যারিসের প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেল (পানি ভেঙে গেল)। বাবা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে বললেন, ‘এমন ঘটনা তো কেবল কোনো ‘স্টুজ’ কমেডিতেই ঘটতে পারে!’

...বাবাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলো, আর খালাকে নেওয়া হলো প্রসূতি কক্ষে, যেখানে তিনি দুই মাস আগেই আমার কাজিন ক্যারলকে জন্ম দিলেন। বাবাকে ওই অবস্থায়—চোখ ফোলা ও মুখে কাটা দাগ নিয়ে—দেখে মা তো হতবাক! পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাবা রসিকতা করে বললেন, ‘এটা কিন্তু কোনো মঞ্চে কমেডি করতে গিয়ে ঘটেনি!’

আজকালের খবর/আতে










Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft