বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬
জাকার্তাকে ‘সিনেমা নগরী’ হিসেবে গড়ে তুলতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম  আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ৪:১১ পিএম  (ভিজিট : ২)
# জুন মাসে ‘জাকার্তা ফিল্ম কমিশন’ চালু হয়েছে;

# ‘নেটফ্লিক্স’-কে অবারিত করতে নিয়ম কানুনের সংশোধন উদ্যোগ;

# প্রযোজকদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ’ পরিষেবা চালু;

#বুসান এর আদলে একটি চলচ্চিত্র কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা

#ইকোসিস্টেমÑপ্রযোজনা থেকে অর্থায়ন এবং বাজার পর্যন্তÑসুসংহত করতে চায়;

# হলের টিকিটের ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড়ের ব্যবস্থা

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত ইন্দোনেশিয়ার সিনেমা শিল্পকে আরো বিস্তার, টেকশই এবং শিল্প হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতির ভাবনায় ‘নেটফ্লিক্স’-কে অবারিত করতে কিছু নিয়ম কানুনের সংশোধন আনতে যাচ্ছে দেশটি। এতে করে দেশটি আরো বেশি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে দেশটি বুসানের (Busan) আদলে নিজেদের চলচ্চিত্রকে ঢেলে সাজাতে কৌশলও গ্রহণ করছে বলেও সম্প্রতি ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়ার চলচ্চিত্র সংস্থা একটি সংশোধিত চলচ্চিত্র আইন প্রণয়নে কাজ করছে, যা সংস্থাটির ক্ষমতা ও কার্যপরিধিকে নতুন রূপ দেবে। একই সময়ে, জাকার্তাÑযেখানে বর্তমানে নেটফ্লিক্সের চারটি প্রজেক্টের কাজ চলছে নিজেকে একটি আঞ্চলিক চলচ্চিত্র কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশটি বুসানের আদলে নিজেদের চলচ্চিত্রকে ঢেলে সাজাতে কৌশলও গ্রহণ করছে।

জাকার্তার ভাইস গভর্নর ও অভিনেতা রানো কার্নো বলেন, “আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, নেটফ্লিক্স বর্তমানে ‘ফিল্মিং ইন জাকার্তা’-র মাধ্যমে চারটি প্রজেক্টের কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, ‘জাকার্তা ফিল্ম সামিট’-এর সময় স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায়, নেটফ্লিক্স স্থানীয় চলচ্চিত্র প্রতিভাদের বিকাশেও সহায়তা করবে।

ইন্দোনেশিয়ান ফিল্ম এজেন্সির (ইচও) চেয়ারম্যান ফাউজান জিদনি ‘ভ্যারাইটি’-কে জানিয়েছেন যে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা আইনের প্রথম খসড়াটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের পর থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট রূপ পেতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “এটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সঠিক সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে, তবে আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি এবং কাজের গতিও বেশ ভালো।”

গত জুন মাসে ‘জাকার্তা ফিল্ম কমিশন’ চালু করা হয়েছে, যার অধীনে ‘ফিল্মিং ইন জাকার্তা’ নামে প্রযোজকদের জন্য একটি ‘ওয়ান-স্টপ’ পরিষেবা ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর থেকে মালয়েশিয়া ও ভারতের বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা চলচ্চিত্র ও সিরিজ নির্মাণের জন্য জাকার্তায় এসেছে।

রাজধানী জাকার্তায় নেটফ্লিক্সের সাম্প্রতিক প্রজেক্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘টাইগো’ (Tygo) যা নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিনেমা ‘এক্সট্রাকশন’ (Extraction)-এর একটি স্পিন-অফ। 

গভর্নর প্রামোনো আনং জাকার্তাকে বুসান (Busan)-এর আদলে একটি চলচ্চিত্র কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কার্নো শহরের চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাকার্তা চলচ্চিত্র নির্মাণের পুরো ইকোসিস্টেমÑপ্রযোজনা থেকে শুরু করে অর্থায়ন এবং বাজার পর্যন্ত সুসংহত করতে চায় এবং বুসানের মতো অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশন সুবিধা, সাউন্ডস্টেজ এবং স্টুডিওর অভাব রয়েছে; শহর কর্তৃপক্ষ আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই ঘাটতিগুলো পূরণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

জাকার্তা নির্দিষ্ট কিছু লোকেশন ফি ৫০ শতাংশ কমিয়েছে এবং যোগ্য ইন্দোনেশীয় চলচ্চিত্রগুলোর ক্ষেত্রে সিনেমা হলের টিকিটের ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। কার্নোর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রণোদনার ক্ষেত্রে শহরটি কেবল প্রাথমিক পদক্ষেপই নিয়েছে; তারা এখন থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই প্রণোদনাগুলোকে আরও উন্নত করার কাজ করছে, যাতে চলচ্চিত্র শিল্পকে দ্রুত বিকশিত করা যায়।

বুসান এক্ষেত্রে একটি ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। কার্নোর ভাষ্যমতে, ‘এশিয়ান ফিল্ম কমিশনস নেটওয়ার্ক’ (AFCNet)-এর আনুষ্ঠানিক সদস্য হতে জাকার্তা ফিল্ম কমিশনকে সহায়তা করেছে বুসান ফিল্ম কমিশন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য এমন একটি সুযোগ, যার মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চলে ভবিষ্যতের একটি চলচ্চিত্র কেন্দ্র (ফিল্ম হাব) হিসেবে পরিচিতি পেতে পারি।”

রাজধানীর বাইরেও এর সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে, শহর কর্তৃপক্ষ ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া’-এর জাকার্তা কার্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল অর্থনীতি খাতে কাজ করছে। পাশাপাশি, তারা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাদের আয়োজিত ফিল্ম সামিট ও উৎসবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তাদের ‘জাকসিনেমা’ (Jaksinema) উদ্যোগের আওতায় জনবহুল বাজার এলাকায় সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে স্বল্পমূল্যের টিকিটের মাধ্যমে নিম্ন  ও মধ্যম আয়ের দর্শকদের কাছে চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

কার্নো, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তিনি আশা করছেন যে এই সামিট বার্ষিক ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হয়ে উঠবে। জাকার্তাকে একটি ‘সিনেমা নগরী’ (City of Cinema) হিসেবে গড়ে তুলতে শহর প্রশাসন পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সামিটে এমন একটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে, যা জিদনির মতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রধান বাধা। ব্যাংকগুলো সাধারণত জমি, ভবন বা যন্ত্রপাতির মতো বাস্তব সম্পদের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে, যা চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থাগুলোর পক্ষে প্রদান করা সম্ভব নয়। চলচ্চিত্রের আইপি (Intellectual Property) যার মধ্যে কপিরাইট, সম্প্রচার ও বিতরণের অধিকার অন্তর্ভুক্ত তার এমন কোনো মূল্যায়ন পদ্ধতি নেই যা ব্যাংক বা ‘ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি’ (OJK) গ্রহণ করতে পারে।
সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক ২০২২ সালের সরকারি প্রবিধান নং ২৪-এ আইপি-ভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে যা প্রয়োজন তা হলো- OJK-এর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কারিগরি নির্দেশিকা এবং সম্পদ গুণমান সংক্রান্ত OJK প্রবিধান নং ৪০ (২০১৯)-এর সংশোধন, যাতে আইপি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জামানত (collateral) হিসেবে গণ্য করা যায়। এই সামিটে OJK, সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (DJKI), বিভিন্ন ব্যাংক এবং ‘ইন্দোনেশিয়ান অ্যাপরাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন’-কে একত্রিত করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো- আইপি মূল্যায়নের একটি আদর্শ পদ্ধতি নির্ধারণ করা, একটি পরীক্ষামূলক অর্থায়ন স্কিম তৈরি করা এবং এ সংক্রান্ত আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো ঠিক করা। জাতীয় পর্যায়ে, ফ্রান্সের সিএনসি, কোরিয়ার কোফিক বা সিঙ্গাপুরের আইএমডিএ-এর সমতুল্য কোনো সংস্থা ইন্দোনেশিয়ায় নেই। বিপিআই বিভিন্ন পক্ষকে একত্রিত করতে, সুপারিশ তুলে ধরতে এবং সমন্বয় সাধনের কাজ করতে পারে, তবে তারা এককভাবে চলচ্চিত্রে অর্থায়ন করতে পারে না কিংবা কোনো নীতি বাধ্যতামূলক করতে পারে না। জিদনি চান, সংশোধিত আইনে যেন এই সংস্থাকে বিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব প্রদান করা হয় এবং এর জন্য সুনির্দিষ্ট ও সংরক্ষিত তহবিল নিশ্চিত করা হয়।

জাকার্তা নির্দিষ্ট কিছু লোকেশন ফি ৫০ শতাংশ কমিয়েছে এবং যোগ্য ইন্দোনেশীয় চলচ্চিত্রগুলোর ক্ষেত্রে সিনেমা হলের টিকিটের ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। কার্নোর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রণোদনার ক্ষেত্রে শহরটি কেবল প্রাথমিক পদক্ষেপই নিয়েছে; তারা এখন থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই প্রণোদনাগুলোকে আরও উন্নত করার কাজ করছে, যাতে চলচ্চিত্র শিল্পকে দ্রুত বিকশিত করা যায়।

বুসান এক্ষেত্রে একটি ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। কার্নোর ভাষ্যমতে, ‘এশিয়ান ফিল্ম কমিশনস নেটওয়ার্ক’-এর আনুষ্ঠানিক সদস্য হতে জাকার্তা ফিল্ম কমিশনকে সহায়তা করেছে বুসান ফিল্ম কমিশন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য এমন একটি সুযোগ, যার মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চলে ভবিষ্যতের একটি চলচ্চিত্র কেন্দ্র (ফিল্ম হাব) হিসেবে পরিচিতি পেতে পারি।”

রাজধানীর বাইরেও এর সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে, শহর কর্তৃপক্ষ ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া’-এর জাকার্তা কার্যালয়ের সাথে যৌথভাবে চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল অর্থনীতি খাতে কাজ করছে। পাশাপাশি, তারা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাদের আয়োজিত ফিল্ম সামিট ও উৎসবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তাদের ‘জাকসিনেমা’  উদ্যোগের আওতায় জনবহুল বাজার এলাকায় সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে স্বল্পমূল্যের টিকিটের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দর্শকদের কাছে চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কার্নো, যিনি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করেছেন, তিনি আশা করছেন যে এই সামিটটি বার্ষিক ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হয়ে উঠবে। জাকার্তাকে একটি ‘সিনেমা নগরী’ হিসেবে গড়ে তুলতে শহর প্রশাসন পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সামিটে এমন একটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে, যা জিদনির মতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রধান বাধা। ব্যাংকগুলো সাধারণত জমি, ভবন বা যন্ত্রপাতির মতো বাস্তব সম্পদের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে, যা চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থাগুলোর পক্ষে প্রদান করা সম্ভব নয়। চলচ্চিত্রের আইপি (Intellectual Property)-যার মধ্যে কপিরাইট, সম্প্রচার ও বিতরণের অধিকার অন্তর্ভুক্ত তার এমন কোনো মূল্যায়ন পদ্ধতি নেই যা ব্যাংক বা ‘ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি’ (OJK) গ্রহণ করতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় বর্তমানে দুটি মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র খাত তদারকি করে। জিদনি জানান, বিপিআই (ইচও) তাদের কোনোটিরই বিকল্প হিসেবে কাজ করতে চাইছে না। তিনি বলেন, “সমন্বয়জনিত এই সমস্যাটি যেমন প্রাতিষ্ঠানিক, তেমনি রাজনৈতিকও; আর এর সমাধান করা আমাদের কাজেরই একটি অংশ।” তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রীর সমর্থনকে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো বলে অভিহিত করেছেন, তবে আইনটি কবে নাগাদ সংসদে পাস হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি।

গত বছর ইন্দোনেশিয়ার বক্স অফিসে স্থানীয় চলচ্চিত্রগুলোর দখলে ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ বাজার। তবে জিদনির মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে ২০২৬ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা এখনো এমন কোনো সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারিনি, যা আমাদের গল্পগুলোকে বাইরের বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।”
লুমিয়ের সামিটে (Lumière Summit), ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সহ-প্রযোজনা (co-production) বিষয়ক একটি নতুন তহবিলের ঘোষণা দিয়েছে। সিএনসি-এর সহায়তায় গঠিত এই তহবিলটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত, যারা ইন্দোনেশীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এর পাশাপাশি একটি ‘ম্যাচিং ফান্ড’ বা সমতুল্য অর্থায়ন ব্যবস্থাও রয়েছে, যার অধীনে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়ন জোগাড় করতে সক্ষম প্রযোজকদের জন্য সরকার একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অনুদান প্রদান করে। জিদনি স্বীকার করেন যে, যাদের বিদেশে কোনো যোগাযোগ নেই, কেবল এই ম্যাচিং ফান্ড তাদের জন্য খুব একটা সহায়ক হবে না।

তিনি বলেন, “এটি আসলে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি বাস্তব প্রণোদনা তৈরি করে। এর সুফল এখন আর কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং দৃশ্যমান এবং সরকারি সমর্থনপুষ্ট।”

২০২৪ সালে ‘জাফ মার্কেট’-এ ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তাদের প্রথম অডিওভিজ্যুয়াল সহ-প্রযোজনা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ফ্রান্সের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। কোরীয় প্রযোজকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন; জিদনির মতে, বিশাল বাজারের আকারের দিক থেকে ইন্দোনেশিয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত অংশীদারÑযদিও তিনি এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আমরা এখন আর অংশীদারদের কাছে কেবল আমাদের সদিচ্ছার ওপর বিশ্বাস রাখার অনুরোধ করছি না।”

ডিজনির সাবেক কর্মী জিদনি লক্ষ্য করেছেন যে, ২০২৩ সালের পর থেকে বৈশ্বিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় কন্টেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছু হটেছে। তিনি বলেন, “একটি প্ল্যাটফর্ম যেকোনো সময় তাদের কন্টেন্ট কৌশল পরিবর্তন করতে পারে, কোনো বাজার থেকে সরে যেতে পারে অথবা ইন্দোনেশীয় কন্টেন্টকে গুরুত্বের তালিকার নিচে নামিয়ে দিতে পারেÑএক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকে না।” বিপিআই এখন আন্তর্জাতিক সেলস এজেন্টদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক বিতরণের ওপর জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি, ইন্দোনেশীয় প্রযোজকরা সম্মিলিতভাবে বাজারে নিজেদের অবস্থান কতটা শক্তিশালী করতে পারেন, তা নিয়েও কাজ চলছে।

প্রতিভাবান কর্মীদের অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইন্দোনেশিয়ার ২৭টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে থাকা চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ১,২০০ জন স্নাতক বেরিয়ে আসেন, কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই চলচ্চিত্র শিল্পে জায়গা পান না এবং এই ক্ষেত্রে কর্মী পরিবর্তনের হার (টার্নওভার রেট) প্রায় ৬০ শতাংশ-জানান জিদনি।

তার দায়িত্বকাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। ততদিনের মধ্যে তিনি অন্তত দুটি দ্বিপাক্ষিক সহ-প্রযোজনা চুক্তি কার্যকর করতে চান, একটি নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান এবং ইন্দোনেশীয় প্রযোজকদের নিয়মিতভাবে বড় বড় আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান।

তিনি বলেন, “যখন এই ব্যবস্থাটি কোনো বিশেষ বীরত্ব ছাড়াই স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করবে, তখনই আমি বুঝতে পারব যে আমরা এমন কিছু গড়ে তুলেছি যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।”

আজকালের খবর/









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft