পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সিকদার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে একটি সাংবাদিক পরিবার।
উপজেলার ২ নম্বর লেবুখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামাল সিকদারের পরিবারের অভিযোগ, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি রেকর্ডীয় হালটের প্রায় ২৯ শতক জমি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। হালটটি কার্তিকপাশা ও আঠারগাছিয়া গ্রামের মানুষের চলাচলের পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পরিবারটির দাবি, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা বললেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনার সময় কামাল সিকদার পটুয়াখালীতে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে দুমকি থানার এসআই শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখানে গিয়ে তিনি দেয়াল নির্মাণের কারণে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান বলে জানান কামাল।
কামাল সিকদার বলেন, সরকারি হালট দখল করে দেয়াল নির্মাণ করায় তাদের পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি জমি উদ্ধার করে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল জব্বার সিকদার ও তার ভাই আবু সালেহ খোকনের দাবি, জায়গাটি তাদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবরস্থানের অংশ। কবরস্থানের নিরাপত্তার স্বার্থেই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। জায়গাটি সরকারি হালট বা খাসজমি হয়ে থাকলে ভূমি প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
এদিকে, জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের রেকর্ড, নকশা ও সরেজমিনে সীমানা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে তা উদ্ধার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে ভূমি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
আজকালের খবর/বিএস