হাসান মাহমুদ বোলিংয়ে, লিটন দাস গ্লাভস হাতে উইকেটের গোড়ায়। হাসান বলটা করলেন অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথে, এরপর যেন একটা আলোর বেগে ঝটকা হলো!
মুহূর্তের মধ্যেই স্টাম্পের বেলস ফেলে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। লিটনের এমন মুগ্ধতায় ছড়ানো স্টাম্পিংয়ে শেষ হলো হাসানের অপেক্ষা। অবশেষে দেশের মাটিতে টেস্টে প্রথম ফাইফারের দেখা পেলেন এই ডানহাতি পেসার।
২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় হাসানের। একই বছরের আগস্টে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ফাইফারের দেখা পান হাসান। এরপর ভারতে, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ফাইফার পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় তো ঐতিহাসিক টেস্টে জয়ের ম্যাচে এক ইনিংসে ৬ উইকেটও নেন তিনি। তবে ঘরের মাঠেই ফাইফারটা যেন অধরা থেকে যাচ্ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে সেই আক্ষেপই মেটালেন হাসান। সবমিলিয়ে ১৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন হাসানের ৫ দেশে ফাইফার আছে। ভেন্যুগুলো হলো-রাওয়ালপিন্ডি, চেন্নাই, ডারউইন, আবুধাবি, সিলেট।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৫টি ভিন্ন দেশে ফাইফার নেওয়া দ্বিতীয় বোলার হাসান মাহমুদ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার নাথান লায়ন।
শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ ফাইফারও হাসানের। মাত্র ১৯ টেস্টেই এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার পরেই আছেন শাহাদাত হোসেন। ৩৮ টেস্টে চারবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন সাবেক এই পেসার।
নাহিদ রানা ও রবিউল ইসলাম দুজনই দুইবার করে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন। নাহিদ ১২ টেস্টে, রবিউল নিয়েছেন ৯ টেস্টে। এ ছাড়া মঞ্জুরুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম একবার করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
এদিন ফাইফার পূর্ণ করার বলেও নতুন ইতিহাস লিখেছেন হাসান। অফ স্টাম্পের উপরে দারুণ এক ডেলিভারি করেন তিনি। ব্যাটার জশুয়া বিশপ ড্রাইভ করতে গিয়ে বলের নাগাল পাননি ব্যাটার। শট খেলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পেছনের পা মাটি থেকে তুলে ফেলেন তিনি। সুযোগে চোখের পলকে স্টাম্প ভেঙে দেন লিটন।
টেস্টে এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো পেসার স্টাম্পিংয়ে উইকেট পেলেন, আর স্টাম্পিং করে সেই ইতিহাসের অংশ হলেন লিটনও। লাঞ্চ বিরতির আগে ৮৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়েছেন হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে এখনো দুই উইকেট আছে। ফলে হাসানেরও উইকেট সংখ্যা বাড়ার সুযোগ আছে।
২০২৪ সালের আগস্টে প্রথমবার ফাইফার নেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের তৃতীয় ইনিংসে ৪৩ রান খরচায় তার শিকার ৫ উইকেট। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে, চলতি বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ও অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ফাইফার নেন হাসান।
আজকালের খবর/ এমকে