মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সুন্দরগঞ্জে তালাকের নোটিশ নিয়ে তোলপাড়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম   (ভিজিট : ০)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে প্রবাসী স্বামীর তালাকের নোটিশকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নোটিশে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ তুলে স্থানীয় কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ করেছেন স্ত্রী মোছা. রেখা বেগম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী দাবি করেছেন, স্বামী দেশে এসে তাঁর উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

রেখা বেগমের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনে সংসারের অভাব দূর করতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে বিদেশে পাঠান তিনি। পরে মিজানুর রহমান দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে আবার বিদেশে চলে যান তিনি। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে রেখা বেগম স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

সম্প্রতি তিনি তালাকের নোটিশ পান। রেখা বেগমের দাবি, তাঁর স্বামী বর্তমানে বিদেশে থাকায় নোটিশে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে তালাকের নোটিশ পাঠানোর অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রেখা বেগম বলেন, “বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি। এত কষ্ট করার পরও তালাকের নোটিশ পেয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

এদিকে, তালাকের নোটিশের সত্যতা জানতে স্থানীয় কয়েকজন কাজী আব্দুল হাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে এক যুবক তাঁকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তালাকের সত্যতা নিশ্চিত করতে কাজী চার দিন সময় নিয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী আব্দুল হাই বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মিজানুর রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বাক্ষর দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।”

এর আগে কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর এক ব্যক্তির নামে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে ওই অভিযোগের তদন্ত বা আইনগত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী রেখা বেগম নিজাম খাঁ গ্রামের মো. তসলিম উদ্দিনের মেয়ে। তাঁর স্বামী মিজানুর রহমান খোঁদ্দা গ্রামের সাহেব উদ্দিনের ছেলে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, “কাজী আমাকে একটি তালাকের কাগজ পাঠিয়েছেন। সেখানে একই নোটিশে তিন তালাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আমার জানামতে বিধির বাইরে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার মো. জহুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সচেতন মহলের দাবি, তালাকের নোটিশের মূল কপি, স্বাক্ষরের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন নথি যাচাই করে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব








Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft