সোমবার ● ১৯ অক্টোবর ২০২৬
পূজার ছুটিতে খাগড়াছড়ি ভ্রমণের দারুণ সুযোগ
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম   (ভিজিট : ০)
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই লম্বা ছুটিতে নাগরিক যান্ত্রিকতা আর কংক্রিটের জগত থেকে কিছুদিনের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন মেঘালয় সাদৃশ্য পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে। সবুজ পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, ভোরের আলোয় মেঘে ঢাকা উপত্যকা, রোমাঞ্চকর প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত সেতু আর শান্ত জলরাশির মায়াবী পরিবেশ হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভ্রমণপিপাসুদের। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় দুর্গোৎসবের আমেজ আপনার এই ভ্রমণকে রাঙিয়ে তুলবে এক অনন্য মাত্রায়।

খাগড়াছড়ির মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে প্রথমেই যে নাম উঠে আসে তা হলো আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পশ্চিমে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই কেন্দ্রের মূল আকর্ষণ এর বিখ্যাত রহস্যময় প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ বা গুহা। গা ছমছম করা অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে টর্চের আলো জ্বেলে হেঁটে অন্য প্রান্তে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চপ্রেমীদের মনে শিহরণ জাগাবে।

পাহাড়ি প্রকৃতির সুউচ্চ সৌন্দর্য ও মেঘের খেলা উপভোগ করতে ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়চূড়া তারেং থেকে। এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহরের প্যানোরামিক ভিউ এবং সবুজ বনভূমির দিগন্তজোড়া রূপ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে পাহাড়ি ঝরনার শীতল পরশ পেতে ভ্রমণতালিকায় যুক্ত করতে পারেন মাটিরাঙ্গা উপজেলার হৃদয় মেম্বারপাড়া এলাকায় অবস্থিত তেরাং তৈ কালাই বা রিছাং ঝর্ণা। পাথুরে ঢাল বেয়ে ঝরনার স্বচ্ছ জলের পতন এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে অবসর সময় কাটানোর জন্য খাগড়াছড়ি শহরের নিকটেই রয়েছে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক। সবুজ বাগান, ঝুলন্ত সেতু ছাড়াও এখানে নতুন সংযোজিত জীপলাইন ও জায়ান্ট সুইং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের বাড়তি আনন্দ জোগাবে। আর একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চলে যেতে পারেন শহর থেকে চৌদ্দ কিলোমিটার দূরে ভাইবোনছড়ার কংচাইরী পাড়া এলাকায় অবস্থিত মায়াবিনী লেকে। পাহাড়ের কোলে ঘেরা এই লেকের শান্ত জলে প্যাডেল বোটে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতিটি এককথায় অসাধারণ।

প্রকৃতির পাশাপাশি এবারের পূজার ছুটিতে খাগড়াছড়ির দুর্গোৎসব হতে পারে আপনার ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বিশেষ করে খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে ত্রিপুরা রমণীর ঐতিহ্যবাহী সাজের আদলে তৈরি প্রতিমা এবং কাঁচা বাঁশের নান্দনিক ও সৃজনশীল নকশায় সাজানো প্যান্ডেল দর্শনার্থীদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে। পাহাড়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে উৎসবের এই মেলবন্ধন আপনার ভ্রমণকে করবে চিরস্মরণীয়।

কীভাবে যাতায়াত করবেন
খাগড়াছড়িতে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ। রাজধানী ঢাকা থেকে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন বাস কাউন্টার (যেমন—শান্তি পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া ইত্যাদি) থেকে নিয়মিত খাগড়াছড়িগামী মানসম্মত এসি ও নন-এসি বাস ছেড়ে যায়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব পরিবহন না থাকলে বায়েজিদ বা অক্সিজেন মোড় থেকে খাগড়াছড়িগামী লোকাল বা দূরপাল্লার বাসে চড়ে সহজেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘোরার জন্য সিএনজি, অটোরিকশা কিংবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলর সাহায্য নিতে হবে। আলুটিলা বা হর্টিকালচার পার্কে খুব সহজেই সিএনজিতে যাওয়া যায়, তবে রিছাং ঝর্ণা বা মায়াবিনী লেকের মতো একটু দূরের স্থানগুলোতে যাওয়ার জন্য মূল সড়ক পর্যন্ত লোকাল গাড়িতে গিয়ে পরবর্তীতে মোড় থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বা রিজার্ভ গাড়ি ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

দুদিনের একটি আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা

প্রথম দিন: সকালে ঘুম থেকেজেগে প্রথম গন্তব্য হোক আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র ও রহস্যময় সুড়ঙ্গ। এরপর দুপুর নাগাদ পাহাড়চূড়া তারেং ঘুরে বিকেলে চমৎকার সময় কাটাতে পারেন জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে।

দ্বিতীয় দিন: সকালের সতেজ আবহাওয়া গায়ে মেখে ছুটে যান তেরাং তৈ কালাই (রিছাং) ঝর্ণায়। এরপর বিকেলের নরম রোদে ভাইবোনছড়ার মায়াবিনী লেকের শান্ত জলে নৌকাভ্রমণ শেষ করে সন্ধ্যায় চলে যান খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে; যেখানে আলোকসজ্জা ও প্রতিমা দর্শনের মধ্য দিয়ে আপনার ভ্রমণ সমাপ্ত হতে পারে এক প্রশান্তিদায়ক সুন্দরে।


আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব








Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft