
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারে আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থাভাবে তার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে পুলিশ আমাদের মূল মামলা নেয়নি, বরং আসামিদের সুবিধা দিতে মনগড়া মামলা লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করেছে।’
ঘটনার বিবরণে স্থানীয় মো. শাহজালাল জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর পৌরসভার ভোষণা গ্রামে বাড়ির পাশের একটি গর্ত সেচে মাছ ধরছিল আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ। এ সময় মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ শুভর মাছ ফেলে দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওই দিন বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজিযোগে প্রায় ৫০-৬০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শাহিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা আমার স্বামীকে হাতজোড় করলেও রক্ষা করেনি। আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারধর করা হয়। আসামিরা আমার স্বামীর চোয়ালের তিনটি দাঁত ভেঙে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। অথচ মামলায় এসব গুরুতর জখমের কথা বাদ দিয়ে শুধু ফুলা জখম দেখানো হয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে না পেরে আমরা এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।’
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কাজী লোকমান, মো. আউয়াল খাঁন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম ও কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং প্রতিপক্ষের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ওনারাই মামলার এজাহার লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ডপূর্বক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আদালত জামিন দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। এজাহারে দাঁত পড়ার বিষয় বা অন্য কোনো জখমের কথা বাদ পড়ে থাকলে তদন্তে তা যুক্ত করা যাবে। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়েছে, যা অপরপক্ষও করেছে।’
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব