বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুরে সেই ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুল ত্যাগ, কারণ জানালেন অভিভাবকেরা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম   (ভিজিট : ২৬)
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একসঙ্গে ৩০ শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে সন্তানদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা উপস্থিত থেকে তাদের অভিযোগ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সমর্থন না করার কারণে তিনি ও তাঁর ছেলেরা ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীতে তারা অভিভাবকদের নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কিত হয়েই বাধ্য হয়ে তারা বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আকল শেখ বলেন, "বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি।" আরেক অভিভাবক মাকসুদা বেগমও সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে অভিভাবকেরা বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান শিক্ষকতার পাশাপাশি পশু চিকিৎসা, বিবাহ নিবন্ধন (কাজীগিরি) এবং স্থানীয় মাতুব্বরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের সঠিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে অভিভাবকদের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, "অবসর গ্রহণের পর আমি বিদ্যালয়েই যাই না। পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল স্বার্থ হাসিলের জন্য অভিভাবকদের ব্যবহার করছে।"

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান দাবি করেন, তিনি স্কুল বাদ দিয়ে অন্য কিছু করেন না। স্কুল সময়ে ক্লাসে থাকলেনও বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে-মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয় বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে অভিভাবকেরা জানান, তারা কেবল সন্তানদের নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের ভয় বা আতঙ্ক ছাড়াই স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব






আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft