‘একট নিখোঁজ সংবাদ’ সিনেমার একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট ফর্মেটের পোস্টার।
এরআগে মুক্তিপ্রাপ্ত অস্তিত্বে আমার দেশ, জাগো, মিস্টার বাংলাদেশ, ওরা ৭জন সিনেমায় বক্তব্য নির্ভরতার কারণে প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন খিজির হায়াত খান। এবার এই নির্মাতা প্রস্তুত হচ্ছেন চারদিকের অসংখ্য সত্য ঘটনা অবলম্বনে ক্ষয়ে যাওয়া বাস্তবতায় বক্তব্যধর্মী চিত্রনাট্য নিয়ে। নতুন এই প্রস্তুতির নাম ‘একটি নিখোঁজ সংবাদ’ । সিনেমাটি নির্মিত হবে কেএইকে প্রডাকশন থেকে।
ইতিমধ্যে গত ১ অক্টোবর প্রকাশ্যে এসেছে ‘একটি নিখোঁজ সংবাদ’-এর অ্যাবস্ট্র্যাক্ট ফর্মেটের গ্রাফিক্স ডিজাইনের পোস্টার। এতে বাংলাদেশের ম্যাপ, নগর ও নাগরিক, সংবাদপত্রের পরিসংখ্যান, একটি শিশুর কান্না। আর এতে স্পষ্ট হয়েছে একটি প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে পদ্ধতিগত গবেষণার মাধ্যমে সমস্যা তুলে ধরে তার ফলাফলের চিত্র বোদ্ধা ও দর্শকের সামনে তুলে ধরা।
‘একটি নিখোঁজ সংবাদ’ নিয়ে কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনার চেয়ারে থাকা মি. খানের বক্তব্য, একটি শিশুর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া একটি পরিবারকে টেনে নিয়ে যায় এমন এক অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে ভয় শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে ঘিরে নয় বরং প্রশ্ন উঠে আসে, আমরা যে সমাজে বাস করি, সেখানে আমাদের শিশুরা আসলে কতটা নিরাপদ?’
এমন সাামজিক বাস্তবতায় নির্মাণে প্রস্তুতিপর্ব ইতিমধ্যে জোরেশোরে এগিয়ে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, লোকেশন রেকি করতে এ মুহূর্তে কুমিল্লাতে আছি। আশা করছি চলতি বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি ক্যামেরা ওপেন করতে পারবো।
এক প্রশ্নের জবাবে মি. খিজির বলেন, পরিচিত এবং স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করবো। এতে গল্প ক্যামেরাবন্দি করার ব্যাপারটা প্রধান্য পাবে। বলতে পারেন তারকা নির্ভরতা নয়, গল্প বিন্যাস আর বাস্তব নির্ভরতা থাকবে আমার এবারের প্রজেক্ট।
মুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ঠিকঠাক থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে ২০২৭ সালের শেষদিকে মুক্তি দিবো। বলতে পারেন একটু সময় নিয়ে ধরে ধরে কাজটি করতে হবে। তারাহুড়ো করতে গিয়ে কাজের মেরিট নষ্ট করতে চাই না।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি সংগঠন অ্যাকশন এইড সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে বলছে, ঢাকায় আড়াই লাখের মত পথ শিশু রয়েছে। ভিক্ষা ছাড়াও চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের ব্যবসা এদের দিয়ে করানো হচ্ছে। এদের মধ্য মেয়ে শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তাদের উপর শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন হয়। ২০১৪ সালে ইউনিসেফের তথ্য মতে প্রায় সাত লাখের মতো পথ-শিশু রয়েছে সারা দেশে। আর সেপ্টেম্বরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার জিডি হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকার কারণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে।