শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সালথায় পাটখড়িতে নতুন সম্ভাবনা, কৃষকের ঘরে বাড়তি আয়ের হাতছানি
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম   (ভিজিট : ৭৭)
পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর সাধারণত পাটখড়িকে কৃষকেরা ফেলনা হিসেবেই দেখতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই পাটখড়িই এখন হয়ে উঠছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উপকরণ। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পাটখড়ি সংগ্রহ, শুকানো ও বিক্রিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পাটখড়ি বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের কারণে মৌসুমে এর চাহিদাও বাড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পাট কাটার পর কৃষকেরা পানিতে পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর পাশাপাশি পাটখড়িগুলোও যত্ন করে তুলে রাখছেন। কেউ বাড়ির উঠানে, কেউ রাস্তার পাশে আবার কেউ খোলা জায়গায় পাটখড়ি স্তূপ করে শুকাচ্ছেন। ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা এসব পাটখড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, আগে পাটখড়ি মূলত রান্নার জ্বালানি ও ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। এখন এর বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ায় পাটখড়ি বিক্রি করে পাটের পাশাপাশি কৃষকেরা বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন।

সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড়গ্রাম এলাকার কৃষক শাহাজু্দিন মাতুব্বর বলেন, “আগে পাটের আঁশ বিক্রি করাই ছিল মূল বিষয়। পাটখড়ি অনেক সময় পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে পাটখড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পাট চাষে বাড়তি লাভ হচ্ছে।”

আরেক কৃষক আজাদ শেখ বলেন, “পাটখড়ি শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারলে পরে বিক্রি করা যায়। এতে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যায়, যা কৃষকের সংসারে কাজে লাগে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সালথায় প্রতি মোটা পাটখড়ি ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা এবং প্রতি ১০০ মোটা ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের ধারণা, সময়ের সঙ্গে পাটখড়ির চাহিদা বাড়ায় এর দামও আরও বাড়তে পারে। একাধিক কৃষক জানান, মৌসুমের শুরুতে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হলেও পরে চাহিদা বাড়লে পাটখড়ির দাম আরও ভালো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় পাটখড়ি ব্যবসায়ী বাদল হোসেন জানান, “এ বছর পাটখড়ির চাহিদা ভালো। কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় পাটখড়ি এখন আর ফেলনা পণ্য নয়।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হতে পারে। একই সঙ্গে পাটখড়িকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ বলেন, “পাট বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। কৃষকদের পাটখড়ি সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

এ ব্যাপারে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, ​“সালথায় পাটখড়িকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হওয়া একটি প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক দিক। পাটখড়ি একসময় ফেলে দেওয়া হলেও এখন তা কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। এটি যেমন গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করছে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করছে।"

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাটচাষিদের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধা তদারকি করা হচ্ছে। পাট ও পাটখড়ির সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, যাতে কৃষকেরা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান।”

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “পাটের উপজাত হিসেবে পাটখড়ির অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো গেলে পাট চাষে কৃষকের লাভের পরিমাণও বাড়তে পারে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাটখড়ির সঠিক ব্যবহার ও বাজারব্যবস্থা গড়ে উঠলে এটি শুধু কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎসই হবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িকেও গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাজারজাত করা গেলে সালথার পাটচাষিরা ভবিষ্যতে আরও লাভবান হতে পারেন।

আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব







আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft