শুক্রবার ● ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সুন্দরবনকে ঘিরে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার আলো
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ১৮৬)
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই বন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে সম্ভাবনার তুলনায় সুন্দরবনের পর্যটন খাত এখনও অনেকটাই সীমিত। বছরের মাত্র চার-পাঁচ মাস পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বাকি সময় পর্যটকশূন্য থাকে বনাঞ্চল। এতে একদিকে যেমন পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ব্যহত হচ্ছে, অন্যদিকে এই সুযোগে সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও বন্যপ্রাণী শিকারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে দাবি ট্যুর অপারেটরদের।

ট্যুর অপারেটরদের মতে, বছরের কয়েক মাস সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত থাকায় বনাঞ্চলের অনেক এলাকায় নজরদারি কমে যায়। এ সুযোগে অসাধু চক্র বিষ প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং বন্যপ্রাণী শিকারে জড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি, পর্যটন কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে সারা বছর চালু রাখা গেলে বনাঞ্চলে মানুষের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়বে। পাশাপাশি পর্যটকদের মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের বিষয়টিও আরও গুরুত্ব পাবে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে বছরজুড়েই পর্যটন কার্যক্রম চালু থাকে। এমনকি বিশ্বের বৃহৎ বনাঞ্চল আমাজনকেও পর্যটনের আওতায় এনে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্যুর অপারেটর ও পর্যটকদের মতে, সুন্দরবনের বিশেষত্ব ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে সারা বছর পর্যটনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের অনন্য ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবনকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা গেলে এই খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন সুবিধা, নিরাপত্তা ও প্রচার-প্রচারণার উন্নয়ন করা গেলে সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম বড় পর্যটন ও রাজস্ব আয়ের খাতে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রচার। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ নৌযান, উন্নত যোগাযোগ, আবাসন সুবিধা, প্রশিক্ষিত গাইড ও তথ্যকেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন করাও জরুরি। খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। নৌযান, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটন গাইড, হস্তশিল্প ও স্থানীয় পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সুন্দরবনে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও বলছেন, প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে সুন্দরবনের বিকল্প নেই। নদী, খাল, গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের অপূর্ব সমন্বয় পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। পর্যটন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ট্যুর অপারেটরদের উদ্যোগে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও জানান তারা।

তবে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চান ট্যুর অপারেটররা। তাদের মতে, সুন্দরবনকে শুধু একটি বনাঞ্চল হিসেবে নয়, পরিকল্পিত ও টেকসই পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন বন সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে, অন্যদিকে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের বড় সুযোগ।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কার্যকর প্রচারণার মাধ্যমে এই বিশ্ব ঐতিহ্যকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।

আজকালের খবর/বিএস 







আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft