চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষ শিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআরএ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা বলেন, সংস্কৃতিচর্চার পথে বাধা অতীতে ছিল, এখনও আছে—তবে সম্মিলিত প্রয়াসে তা দূর করা সম্ভব।
রোববার ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত “চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির প্রতিবন্ধকতা রোধে করণীয়” শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিত্রনায়ক, জাসাস কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও চলচ্চিত্রের ১৯ সংগঠনের আহবায়ক হেলাল খান বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতিবান্ধব এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা বিদ্যমান।
বিসিআর আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন জাসাস এর আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান। ছবি : সৌমিক হাসান সোহাগ
তিনি বলেন, “সংস্কৃতি আমাদের রক্তে মিশে আছে। তাই চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, নতুন সিনেমাহল নির্মাণসহ শিল্পচর্চার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জন্য, এমনকি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ তৈরির বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
বিসিআরএ’র সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম তার উদ্বোধনী বক্তব্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্কৃতি অঙ্গনের সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কনসার্ট বন্ধ হওয়া, বাউলশিল্পীদের ওপর হামলা, নৌকা বাইচ বন্ধ—এসব ঘটনা সংস্কৃতির স্বাভাবিক বিকাশকে ব্যাহত করেছে। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সম্মিলিত আলোচনা ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, অনুদান প্রযোজকদের হাতে দিলে তারা মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তিনি।
পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিভিন্ন ধারার গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া উপস্থিত বক্তারা চলচ্চিত্র শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রদর্শনব্যবস্থা উন্নয়ন, সেন্সর নীতিমালার সংস্কার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
আয়োজনে আরো বক্তব্য দেন প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক ও স্থপতি মশিহ উদ্দিন শাকের, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি ও সাংবাদিক নেতা বাছির জামাল, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান সাইদ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, পরিচালক ও সংলাপ রচয়িতা ছটকু আহমেদ, পরিচালক জাকির হোসেন রাজু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন ডিরেক্টস গিল্ডের যুগ্ম সাধারণ দীন মোহাম্মদ মন্টু, চিত্রনায়িকা নূতন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি ও খিলগাঁও মডেল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী, আব্দুস সামাদ খোকন, পরিচালক, প্রযোজক ও সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য এ জে রানা, বাংলাদেশ হল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন প্রধান, পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, গাজী মাহবুব, সাইমন তারিক, হাসিব রেজা মিলন, আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক ও বাচসাস এর সাবেক সভাপতি মো. রফিকুজ্জামান, বাচসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শপথ চৌধুরী, সংগীত পরিচালক রিপন খান, মাকসুূদ জামিল মিন্টু, বিশিষ্ট গীতিকার মুন্সী ওয়াদুূদ, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান, পরিচালক ও অভিনেতা শাওন আশরাফ, চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও দিনকাল এর চীফ রিপোর্টার আবদুল্লাহ জেয়াদ, সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তর, মোস্তফা মতিহার, জিসাস এর সভাপতি কেয়া চৌধুরী, সংগীতা চৌধুরী, বাউলশিল্পী রুমি সরকার প্রমুখ।
বিসিআর আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন সাংবাদিক কল্যান ট্রাস্টের মহাপরিচালক ও বাচসাস সদস্য বাছির জামাল। ছবি : সৌমিক হাসান সোহাগ
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বাচসাস এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিমন মাহফুজ, সাংবাদিক ও নাট্যকার রেজাউর রহমান রিজভী, বিসিআরএ এর সহসভাপতি সৌমিক হাসান সোহাগ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত কবীর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রোমন রায়, উপদেষ্টা জাকির হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।