গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মারা যাওয়ার দুই বছর পর এক যুবকের নতুন করে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। মৃত ব্যক্তির নামে নিকাহনামা তৈরি ও তারিখ জালিয়াতির এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যমতে, লাটশালা গ্রামের মো. হোসেন আলীর ছেলে মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল আত্মহত্যা করে মারা যান। এর আগে একই ইউনিয়নের মোছা. শারমিন আক্তারের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। মতিয়ারের মৃত্যুর পর শারমিন আক্তার পরবর্তীতে অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মতিয়ার রহমানের বাবা হোসেন আলী ছেলের আগের বিবাহের নিকাহনামার একটি নকল কপির জন্য কাজী আব্দুল হাইয়ের কাছে যান। পুরোনো বালাম বই থেকে নকল কপি দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, কাজী মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট মৃত মতিয়ার রহমান ও শারমিন আক্তারের বিবাহ নতুন করে রেজিস্ট্রি করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী তড়িঘড়ি করে আগের তারিখ (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি সরবরাহ করেন।
নিহতের বাবা মো. হোসেন আলী বলেন, "আমার ছেলে ২০২৪ সালেই মারা গেছে। আমি শুধু পুরোনো বিয়ের কাগজের কপি চেয়েছিলাম। কিন্তু কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে তাকে জীবিত দেখিয়ে নতুন করে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোনো টাকা লেনদেন হয়নি। বালাম বইয়ের তথ্য অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে।"
এ বিষয়ে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম মতিয়ারের ২০২৪ সালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিষদ থেকে পরিবারকে মৃত্যুর সনদপত্র দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, মৃত ব্যক্তির নামে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কোনো আইনি সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাজীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব