নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে (২৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে আরও দুই যুবক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে জানা গেছে।
রবিবার (৭ জুন) দিনগত রাতে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়ি ঘরে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তিনজনই হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার)। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের কোনো শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ঘটনাটি আস্তে আস্তে জানাজানি হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিন আসামি হলেন, হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং সুইপার অমিত (২৩), অনিল (২৪) এবং প্রাঙ্গন (২৩)। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনজনকে আটক করেছে নাটোর সদর থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই নারী দুই বছর বয়সী অসুস্থ কন্যাকে গত ৫ জুন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তার স্বামী পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। কাজের জন্য তার স্বামী বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালে মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, গত রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে আসামি অমিত ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় অমিতের অপর দুই সহযোগী অনিল ও প্রাঙ্গন সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে তারা ভুক্তভোগী নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং তাদের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ ও হুমকি প্রদান করে। এদিকে, শিশু ওয়ার্ডে দীর্ঘক্ষণ মাকে না পেয়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাউদ্দিন হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ছয়তলার সিঁড়িতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর তারা হাসপাতাল স্টাফদের নিয়ে সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এত বড় একটি অপরাধের ঘটনা জানার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো হাসপাতাল চত্বর থেকে তাদের সহজে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে আজ ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় অভিযুক্ত অমিতসহ তিন সুইপারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে তিনজনকে আটক করা হয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তার ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ওসি বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে নাটোরের সিভিল সার্জন ডাঃ মশিউর রহমান বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এজন্য অফিসিয়ালি কিছুই বুঝে পাননি। তবে অনাকাঙ্খিত ঘটনার কথা শুনেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের সহ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
আজকালের খবর / রাশেদুল মিলন