বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি ঠাকুরগাঁওয়ের সকল রাজনৈতিক দলকে আহবান জানাবো, যেন দলীয় মত প্রচার করতে গিয়ে কোন সংঘাত-সংঘর্ষ সৃষ্টি না হয়।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনায় বক্তব্যকালে এই আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছে, গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার করেছি। ত্যাগের বিনিময়ে, প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আজ সেই শহীদ পরিবারের মা-বোনদের আপনারা দেখলেন। আমরা আর রক্তপাত চাইনা। লড়াই করে যে গণতন্ত্র পনুরুদ্ধার করেছি তা আমরা সমুন্নত রাখতে চাই।গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আাবার গড়ে তুলতে চাই। এখন ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ^বিদ্যালয়য়ের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রয়েছে, এখন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকী কাজসমূহ বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও মেডিক্যাল কলেজের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে ছাত্রভর্তি শুরু হবে।এছাড়া আপনাদের দাবী অনুযায়ী ভুল্লী ও রুহিয়া নামে দুইটি নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দুটিতেই ইউএনও যোগ দিয়েছেন। প্রশাসনিক কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
আমাদের পুরাতন বিমান বন্দর চালুর প্রচেষ্টা জোরদার আছে। এই জেলায় শিল্প-কল-কারখানা স্থাপন করে সাধারণ মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবার জন্য চেষ্টা করতে চাই। আমরা কিছুদিন আগে বাণিজ্য উপদেষ্টাকে এনছিলাম এখানে, যেন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করে লোকজনের কর্ম সংস্থান করা সম্ভব হয়। আমরা এখানে চীনা রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসছিলাম, তারা শিশুদের স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপরণ উপহার দেন। কয়েকদিন আগে এখানকার ১০ জন শিশু এবং ৫ জন শিক্ষক চীন ভ্রমণ করে এসেছেন। এই সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের সাথে কথা হয়েছে তাদের বিশেষজ্ঞ দল এখানে আসবে। কৃষিভিক্তিক শিল্প যেন গড়ে তোলা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে আমরা জোর দিবো। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নিরীহ গোছের। এখানে দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে-মিশে থাকবে, এই কাম্য।
আমরা বাংলাদেশকে আবার বির্নিমাণ করে সাধারণ মানুষের অভাব দূর করতে চাই। আমরা শিক্ষা,ব্যবসা বণিজ্যের উন্নয়ন করতে চাই। আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই। সেখানে সকল ধর্মের মানুষ বাংলাদেশী নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে থাকবে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের ঠাকুরগাঁওবাসী এই বিষয়গুলোতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। আমি যখনই আপনাদের কাছে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছি আপনারা আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন। তিনি আঞ্চলিক ভাষায় রসিকতা করে বলেন, ‘মুই জানো, তুমরা মোক ভালোবাসেন’।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী ফাস্ট লেডি রাহাত আরা বেগম, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ভাই মির্জা ফয়সল আমীন এবং ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবধনা কমিটির আহবায়ক ডা. আবু মো.খয়রুল কবীর, সচিব ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। এছাড়াও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ প্রমুখ।
আজকালের খবর/বিএস