বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ত্রৈমাসিক সমন্বয় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে তাঁর কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার টিএম আহমেদ হুসেইনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, বিভাগের পরিচালক, শাখাপ্রধান এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় সনদ সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ, উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজন এবং পরীক্ষা চলাকালে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাউবির সব স্কুলের একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি নীতিমালা প্রণয়ন, জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রোগ্রাম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে প্রচার ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় তৃতীয় লিঙ্গ ও নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে ফি আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষায় অসাধু উপায় প্রতিরোধে প্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও কর্মকর্তারা মতামত দেন।
স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তালেবের সঞ্চালনায় সভায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা ও পরামর্শ মনোযোগসহকারে শোনেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
তিনি বলেন, “স্বল্প জনবল ও সীমিত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের পথে আমরা এগিয়ে যাব।”
বাউবি শুধু সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয় উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “বাউবি ডিগ্রি অর্জনের একটি প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি দ্রুত ই-অ্যাটেনডেন্স প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন বাউবির ষষ্ঠ সমাবর্তন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান উপাচার্য।
আজকালের খবর/ এমকে