
চাঁদপুরের ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ ও আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেটকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপতৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এস্টেটের মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এস্টেটের বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে—এমন দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব প্রচারের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত এস্টেটে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মোতওয়াল্লী জানান, এস্টেটের সম্পত্তি ও স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়ছেন। তার দাবি, এস্টেটের সঙ্গে কয়েকজনের আর্থিক ও সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে কোনো পক্ষ পাওনা বা সম্পত্তির বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে পারলে ওয়াকফ বিধি অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু আদালতের রায়ের আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে মনগড়া প্রচার চালানোর উদ্দেশ্য নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এস্টেটের বিরোধের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ঠিকাদার মো. কবির হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে কাজের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ভুয়া ভাউচার ও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সত্যতা পাওয়ার পর এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া আজাদ রহমান মাসুদ মজুমদার নির্মাণাধীন মার্কেটের তিনটি কক্ষ বাবদ ৩৮ লাখ টাকা জমা দিলেও পরবর্তী সময়ে জমাকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করার বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। মোহাম্মদ আলাল হোসেনের বিরুদ্ধে সর্বসাধারণের ব্যবহৃত কবরস্থানের জায়গা নিয়ে মালিকানা দাবি ও দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এস্টেটের হিসাবরক্ষক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মো. মিজান ব্যাপারী নামের এক ঠিকাদারকে ২০২২ সালের কাজের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও (২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নোটিশ দেওয়া হয়) তিনি এখনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
মোতওয়াল্লী পক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) ১ দশমিক ১৯ একর সম্পত্তি দিয়ে এই ওয়াকফ এস্টেটের যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে দায়িত্বে থাকা মোতওয়াল্লীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে ৯ দশমিক ৭০ একরে উন্নীত হয়েছে। হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা, জামিয়া আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রাসা, হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহ.) হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মুনিরিয়া নূরানী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে মোতওয়াল্লী পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ছাড়া হাজীগঞ্জ প্লাজা মার্কেট, হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, কাওমী মাদ্রাসা মার্কেট, রজনীগন্ধা মার্কেট, রজনীগন্ধা এক্সটেনশন এবং হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের মতো বিভিন্ন কর্মসংস্থানমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে ইসলামী ব্যাংক থেকে দুই ধাপে মোট ৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দোকান বরাদ্দগ্রহীতাদের অর্থ ফেরত দিতে গিয়ে এস্টেট আর্থিক সংকটে পড়ে। ব্যাংকের ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করতে মোতওয়াল্লী পক্ষ তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করেছে এবং বর্তমানে বসতবাড়িও ব্যাংকে মর্টগেজ রয়েছে।
এ বিষয়ে মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, "ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ ও সুনাম রক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু বিভিন্ন মহলের অপপ্রচারে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।" আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ওয়াকফ এস্টেট ও মোতওয়াল্লী পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব