প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ পিএম (ভিজিট : ১৮)
১০ গুণী ব্যক্তির গ্রাফিতি উদ্বোধন করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন শেষে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্কার করা ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন ও বেঞ্চ স্থাপনের পাশাপাশি সীমানা প্রাচীরও সংস্কার করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফুটপাতসংলগ্ন এলাকায় দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। আর এমন কাজের জন্য ডিএসসিসির প্রশাসককে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নাগরিক সমাজ।
সোমবার সকালে সেগুনবাগিচায় এই সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. খয়বর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। হকারদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থানে তাদের ব্যবসা করতে হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার নিষিদ্ধ স্থানে বসলে মালামাল ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসক জানান, পীর ইয়ামেনী মাজার এলাকায় শুক্র ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ এবং অন্যান্য দিনে আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যে স্থান দিয়ে আগে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারত না, নিরলস প্রচেষ্টায় সেটিকে হকারমুক্ত করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকাটিকে একটি পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ডিএসসিসি।
এলাকাটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পালন করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সৌন্দর্য ও পরিবেশ বজায় রাখতে শিল্পকলা একাডেমি এবং সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ঢাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে সাংবাদিক, হকারসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন ডিএসসিসির প্রশাসক।
এদিকে ১০ গুণী ব্যক্তির গ্রাফিতির ঘটনাকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে এমন উদ্যোগের ভুয়ঁসী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা বলেন, এমনি উদ্যোগ ঢাকার জন্য অভাবনীয়। এরআগে আমরা রাজশাহী নগরীতে এমনটা দেখেছিলাম, কিন্তু ঢাকার জন্য বিশেষ করে দক্ষিণের জন্য এটা অকল্পনীয়, বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব প্রশাসক এর বাস্তবায়ন করে ঢাকা দক্ষিণে তার যথার্থতার প্রমাণ দিলেন।