দীর্ঘ ৭০ বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী, জীবনের প্রতিটি সংকটে পাশে থাকা প্রিয়তম স্ত্রীকে অশ্রুসিক্ত চোখে চিরবিদায় জানালেন মালয়েশিয়ার আধুনিক রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ। সোমবার পুত্রজায়ায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে তাঁর জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলির। ১০১ বছর বয়সী প্রবীণ এই নেতা আজ হুইলচেয়ারে বসে এবং অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
এ সময় জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বনকে হারানোর বেদনায় তাঁকে বারবার চোখ মুছতে দেখা যায়।শোকের ছায়া ও শেষ বিদায়। সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) শতবর্ষী সিতি হাসমাহ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নির্দেশে মরহুম সিতি হাসমাহকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। সেলাঙ্গরের সেরি কেমবাংগানের মসজিদ আস-শরিফে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পুত্রজায়ার প্রিসিন্ট ২০-এর 'পুসারা নেগারা' (জাতীয় সমাধিস্থল)-এ তাঁকে দাফন করা হয়। সেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, কূটনৈতিক এবং হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শ জুটিমাহাথির ও সিতি হাসমাহর প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে, সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিনে পড়ার সময়। দীর্ঘ ৯ বছর চেনা-জানার পর ১৯৫৬ সালের আগস্টে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এই দম্পতি তাঁদের বিয়ের ৭০ বছর (প্লাটিনাম জুবিলি) উদযাপন করেছিলেন।
এশিয়া রেকর্ডস অনুযায়ী, তাঁরাই বিশ্বের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান ও জীবনসঙ্গী জুটি, যাঁরা দুজনেই সফলভাবে শতবর্ষ পার করেছেন।নিজের আলোয় উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্বড. সিতি হাসমাহ কেবল মাহাথিরের স্ত্রী হিসেবেই নন, নিজের কাজের মাধ্যমেও মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন মালয়ের প্রথম সারির কয়েকজন মালয় নারী চিকিৎসকের একজন।
প্রধানমন্ত্রী পত্নী হিসেবে তিনি মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধের মতো সামাজিক বিষয়ে আজীবন জোরালো ভূমিকা পালন করে গেছেন। মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ ও ঝোড়ো রাজনৈতিক জীবনে সিতি হাসমাহ ছিলেন এক শান্ত ও অবিচল শক্তির উৎস। সেই শক্তির চিরবিদায়ের দিনে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনকের অশ্রুসিক্ত মুখটি উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
আজকালের খবর/এমকে