চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোমে পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অবহেলায় রবগুল মোল্লা (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকটিতে নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজনরা দফায় দফায় ভাঙচুর চালান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান।
জানা যায়, নিহত রবগুল মোল্লা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রবগুল মোল্লাকে উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের মালিক ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময় অস্ত্রোপচার শুরু করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে অপারেশন টেবিলেই রবগুল মোল্লার মৃত্যু হয়। তাদের দাবি, মৃত্যুর পর চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক তাকে অপারেশন থিয়েটারে রেখেই সেখান থেকে চলে যান।
তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রবগুল মোল্লার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিকে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা ক্লিনিকে দফায় দফায় ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ দিকে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ঘটনায় তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উপশম নার্সিং হোম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্লিনিকে ভর্তি থাকা রোগীদেরও অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মারুফ রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিন বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্লিনিকটি পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আজকালের খবর/বিএস