রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বসতিদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিয়েছে। আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরও পুলিশ তাদের এক দিনের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে আতঙ্কে রয়েছেন ওই জমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলো। পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ এলাকায় সরাইযাত্রাবাদ মৌজার একটি জমি নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে ‘বিত্ত বিভব উন্নয়ন প্রাইভেট লিমিটেড (সৈকত হাউজিং)’ প্রকল্পের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শহীদুল্লাহ পাটোয়ারি ওই জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমির একটি অংশ আব্দুল হাই পাটোয়ারির কাছে বিক্রি করা হয়। জমি বুঝে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন আব্দুল হাই।
২০১১ সালে আব্দুল হাই পাটোয়ারি মারা যান। তার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে বর্তমানে ওই জমিতে বসবাস করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন তারা।
আব্দুল হাইয়ের তৃতীয় ছেলে শিমুল পাটোয়ারি জানান, প্রায় ২০ দিন আগে স্থানীয় রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্কেল আলী তাদের বাড়িতে গিয়ে জমিটি অন্য একটি পক্ষ দাবি করছে বলে জানান। তাদের কাছে জমির দলিল রয়েছে বলেও জানানো হয়। পরে পুলিশ তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলে।
শিমুলের অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুরশিদ আনোয়ার ভূইয়া নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা চলে গেলেও যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল হাইয়ের সন্তানরা আদালতের আশ্রয় নেন। তাদের পক্ষ থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়। একই সঙ্গে জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুলিশি নজরদারির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরও শিমুল পাটোয়ারির স্ত্রী ফাতেমা ও তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম (খোকন) পাটোয়ারিকে স্থানীয় পুলিশ বিটে ডেকে নেওয়া হয়।
ফাতেমার অভিযোগ, সেখানে তাদের এক দিনের মধ্যে ওই জমির বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়। অন্যথায় উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানানো হয়। আদালতের নির্দেশের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে পুলিশ সদস্যরা আদালতের আদেশ আদালতেই থাকবে এবং জমি না ছাড়লে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছেন, বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাতেমা আরও অভিযোগ করেন, বিবাদী পক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা ও মারধরের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় দীর্ঘদিনের বসতিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি আদালতের নির্দেশের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্কেল আলী বলেন, তাদের ডেকে আনা হয়েছিল। বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জুয়েল রানা দেখছেন। জমি নিয়ে সেখানে বিরোধ চলছে বলেও জানান তিনি।
তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি শুনে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান।
আজকালের খবর/ এমকে