জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর তদারকির জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করতে একটি স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের ওপর আবারও জোর দিয়েছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বিশ্ব সংস্থাটির মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার সময় তিনি এ বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর তদারকির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসছি।’
এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভবিষয়ক তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি এবং জবাবদিহির ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জড়িত অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। বিশ্ব সংস্থাটি বলেছে, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্ত করার ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের থাকতে হবে।
এই সুপারিশগুলো এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মানবাধিকারগোষ্ঠী, অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণীত বলপূর্বক গুম-সংক্রান্ত আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই আইনগুলো বিশেষ করে স্বাধীনতা, তদন্তের ক্ষমতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে না।
ফলকার তুর্ক তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিবাসীদের মৃত্যু এবং ‘সম্পর্কহীন’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশে জোর করে তাদের অনেককে ফেরত পাঠানোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কেবল ২০২৬ সালেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজকালের খবর/ এমকে