বিবার দুপুরে দিল্লির সত্য নিকেতন চত্বরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিপর্যয়। এখনো পর্যন্ত ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩, আহত আরও অনেকে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির এই অঞ্চলটি মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের পড়ুয়াদের পিজি বা পেয়িং গেস্ট আবাসনের একটি অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। রবিবার দুপুরে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেখানকার একটি পাঁচতলা বহুতল, যা মূলত বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শিক্ষার্থীদের হস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হলেও তাঁদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং বাকি দুজনের হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর দেড়টা নাগাদ সাউথ ক্যাম্পাস থানায় সত্য নিকেতন মার্কেটের ওই বহুতল ভেঙে পড়ার খবর আসে। ভেঙে পড়া ভবনটিতে 'হস্টেল ডেজ' নামের একটি পিজি চলত, যেখানে প্রায় তিরিশ জন শিক্ষার্থী বসবাস করতেন। জানা গিয়েছে, প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরনো এই ভবনটির বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল এবং সেখানে জল ঢুকে যাওয়ার সমস্যাও তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবনটির কোনো মজবুত ভিত বা শক্ত পিলার ছিল না, অত্যন্ত দুর্বল কাঠামোর ওপর একের পর এক তলা তুলে নেওয়া হয়েছিল। রবিবার কাজ চলাকালীন অতিরিক্ত ভার সহ্য করতে না পেরে পুরো বহুতলটি সামনের রাস্তার ওপর হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পর থেকেই হস্টেলটির পরিচালক আনন্দ বনসালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে প্রথম এগিয়ে আসেন আশপাশের সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাই। সরকারি উদ্ধারকারী দল এবং জেসিবি মেশিন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় যুবক ও ছাত্ররা হাত দিয়ে ভারী পাথর আর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভেতরের মানুষদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালান।
পরবর্তীতে দমকল বাহিনীর দশটি ইঞ্জিন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের যৌথ দল এসে বড় মাপের উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকারীরা উদ্ধার করছেন বইখাতা, দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী, যা উপস্থিত সকলকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
উদ্ধারকাজে হাত লাগানো এক শিক্ষার্থী জানান, কীভাবে ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বন্ধুদের ভিডিও কল করে সাহায্য চাইছিলেন।
আজকালের খবর/এমকে