কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটা, ইটভাটায় এর ব্যবহার এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অবৈধ ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি জব্দ, বেআইনি ইটভাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির গর্ত ভরাট এবং মাটি আবাদযোগ্য করার উদ্যোগ নিয়ে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মুরাদনগর ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আদেশে নদী ও কৃষিজমিতে ড্রেজার চালানো বন্ধ করতে পুলিশের নিয়মিত পেট্রোল ডিউটি জোরদার করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও নির্দেশ রয়েছে।
রিটকারী ও কৃষি-পরিবেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ (উজ্জল) এবং আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন জুয়েল জানান, মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটা ও অবৈধ আবাসন নির্মাণের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনকে প্রায় ৬০টি আবেদন এবং নোটিশ দেওয়া হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ২০২২ সালে জনস্বার্থে এই রিট (নং-১৪১০৮/২০২২) দায়ের করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরেও হাইকোর্ট ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত ও গর্ত ভরাটের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলেছিলেন, যা যথাসময়ে বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে মুরাদনগরে জনগণের চলাচলের একটি সরকারি রাস্তার গতিপথ অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করার অভিযোগেও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের লিখিত আবেদনের পর প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।
রিটকারী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, "কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় হাইকোর্টের এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু আদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।"
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব