সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬
মালয়েশিয়ায় গুগলের ডেটা সেন্টার, অবকাঠামো ব্যয় নিজেই বহন করবে কোম্পানি
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৫ পিএম   (ভিজিট : ২৩)
মালয়েশিয়ায় গুগলের প্রথম ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যয় স্থানীয় জনগণের ওপর চাপাবে না প্রতিষ্ঠানটি। সেলাঙ্গরের এলমিনা বিজনেস পার্কে নির্মাণাধীন এ ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সমিশন লাইন ও সাবস্টেশন নির্মাণের ব্যয় গুগল নিজেই বহন করবে।

গুগল এশিয়া-প্যাসিফিকের গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের প্রিন্সিপাল কেন সিয়াহ বলেছেন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় নিজেদের বহন করার বিষয়ে গুগল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা বা সম্প্রদায়ের ওপর এ ব্যয় চাপিয়ে দিতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ বিলের শতভাগ গুগল নিজেই পরিশোধ করবে। কোনো ধরনের ভর্তুকিও নেওয়া হবে না। মালয়েশিয়ায় ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য নতুন যে বিদ্যুৎ ট্যারিফ চালু হয়েছে, সেটিই পরিশোধ করবে গুগল।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৮ দশমিক ০৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় গুগল। বর্তমানে সেলাঙ্গরের এলমিনা বিজনেস পার্কে ডেটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ চলছে।

কেন সিয়াহ বলেন, কোনো স্থানে ডেটা সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করে গুগল। ডেটা সেন্টারের বিদ্যুতের চাহিদা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা থাকলে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির ব্যবস্থা করা হয় অথবা বিকল্প স্থান বেছে নেওয়া হয়।

ডেটা সেন্টারটির পানি ব্যবহারের বিষয়ে কেন সিয়াহ বলেন, কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রকৃত ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করতে চায় গুগল। নকশা পর্যায়ে করা অনুমানের পরিবর্তে বাস্তব ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পর এলমিনা স্থাপনার বার্ষিক পানি ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, এলমিনার ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের ঝুঁকি মূল্যায়নে ১০০ বছর পর্যন্ত ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, স্থানীয় পানিসম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই ডেটা সেন্টারটির পানি ব্যবহার সম্ভব।

তবে স্থানীয় পানিসম্পদের ওপর ঝুঁকি তৈরি হলে গুগল পানি ব্যবহার না করে বিকল্প শীতলীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

এলমিনায় বাষ্পীভবনভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পানি পুনরায় সঞ্চালন করা হবে। পানি বাষ্পীভূত হয়ে শেষ পর্যন্ত জলচক্রে ফিরে গেলেও গুগলের পানি ব্যবহারের হিসাবের ক্ষেত্রে তা ব্যবহৃত পানি হিসেবে গণনা করা হবে।

কেন সিয়াহ বলেন, গুগল যতটুকু মিঠা পানি ব্যবহার করবে, তার সমপরিমাণের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পানি পুনরায় পূরণ করবে।

মালয়েশিয়ায় গুগলের প্রথম পানি পুনঃপূরণ প্রকল্পটি গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট সেন্টার ও পেতালিং জায়া সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় তামান আমান এলাকার একটি হ্রদ পুনরুদ্ধার এবং সেখানে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুগল মালয়েশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। শিজেন এনার্জি ও টোটালএনার্জিসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ২১ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়ায় নতুন করে ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে। এ উদ্যোগ গুগলের ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বক্ষণিক কার্বনমুক্ত জ্বালানিতে পরিচালিত হওয়ার বৈশ্বিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কেন সিয়াহ বলেন, গুগল এমন পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহার করতে চায় না, যা আগে থেকেই গ্রিডে রয়েছে। বরং এমন নতুন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যা গুগলের বিদ্যুৎ ক্রয়ের নিশ্চয়তা না থাকলে হয়তো তৈরি হতো না।

নির্মাণে ৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান

এদিকে গুগলের মালয়েশিয়ার ডেটা সেন্টার শুধু প্রযুক্তিখাতেই নয়, নির্মাণ ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন কেন সিয়াহ।

তিনি জানান, একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণের সময় সাধারণত ৪ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত থাকেন। নির্মাণপর্ব তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। ডেটা সেন্টারটি পুরোপুরি চালু হওয়ার পরও স্থায়ীভাবে কয়েকশ কর্মী কাজ করবেন। সার্ভার টেকনিশিয়ান, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

কেন সিয়াহ বলেন, ডেটা সেন্টারকে অনেকেই এমন একটি ভবন হিসেবে মনে করেন, যেখানে খুব কম মানুষ কাজ করেন। বাস্তবে গুগলের ডেটা সেন্টারগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয় এবং এসব স্থাপনায় অত্যন্ত দক্ষ ও বিশেষায়িত জনবল প্রয়োজন।

তার মতে, অনলাইন সার্চ, ই-মেইল, ভিডিও স্ট্রিমিং ও ডিজিটাল পেমেন্টের মতো কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত সেবা পরিচালনার পেছনে ডেটা সেন্টারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থাপনার কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রয়োজনও দ্রুত বাড়ছে।

ডেটা সেন্টারের কর্মীদের মধ্যে সার্ভার টেকনিশিয়ানরা যন্ত্রপাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবেন। নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়াররা যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখবেন। যান্ত্রিক প্রকৌশলীরা শীতলীকরণ ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন এবং বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীরা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবেন।

এ ছাড়া ক্রয়, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্সের মতো ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ও বাড়বে সুযোগ

ডেটা সেন্টারকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন গুগলের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, গুগলের একটি ডেটা সেন্টারে সরাসরি যে একটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়, তার মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ৯টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা সমর্থিত হয়। এর মধ্যে নির্মাণ ও পরামর্শক সেবা, পরিবহন, নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহের মতো বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত।

ডেটা সেন্টারে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ক্যাফেটেরিয়াও প্রয়োজন হয়। ফলে স্থানীয় খাদ্য সরবরাহকারী, রান্নাঘরের কর্মী ও খাবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

কেন সিয়াহ বলেন, ডেটা সেন্টারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এসব চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এ অর্থনৈতিক সুফল শুধু নির্মাণপর্বে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গুগল নিজেদের ডিজিটাল সেবা পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টারগুলো তৈরি করে, বাইরের প্রতিষ্ঠানের কাছে জায়গা ভাড়া দেওয়ার জন্য নয়। ফলে স্থাপনাটি চালু হওয়ার পরও স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

আজকালের খবর/এমকে






আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft