‘ধর্মীয় নিপীড়নের’ কারণে যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের (সিএএ) অধীনে আবেদন করেছেন, তারা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই নাগরিকত্ব পাবেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে এক জনসভায় এমন ঘোষণা দেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এটা আমার প্রতিশ্রুতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে (এ বিষয়ে) যোগাযোগ রাখছে।
অমিত শাহ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের ৮ জন জেলাশাসককে ‘বিতর্কিত’ সিএএ-র অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছে। তিনি বলেন, শরণার্থীদের অবশ্যই সসম্মানে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলাশাসকদের সিএএ-র অধীনে থাকা অমীমাংসিত আবেদনগুলো নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করে। এর আগে, আদমশুমারি, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তাসহ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে এই আবেদনগুলো প্রসেস করা হতো।
সিএএ বিরোধিতার ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, ‘আমরা যখন সিএএ চালু করি, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে উপহাস করতেন। তিনি বলতেন, আমরা এই আইন কার্যকর করতে পারব না, কারণ তার সরকার আমাদের তা করতে দেবে না। মমতা দিদি, আপনি আইনটি বাস্তবায়ন করতে রাজি হননি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাকে এবং আপনার সরকার উভয়কেই যেতে হলো। এখন এখানে আমাদের বিজেপি সরকার রয়েছে।’
একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সব ‘অনুপ্রবেশকারীকে’ চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করবে বলেও জানান তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
আজকালের খবর/বিএস