ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা একটি দেশের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থনৈতিক যুদ্ধের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘সব সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
বাঘেয়ি বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার এই ঘোষণা জাতিসংঘের সকল স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বহিঃরাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। কোনো সরকারেরই বিদেশি ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে, যারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সার্বভৌমত্বের একচেটিয়া এখতিয়ারে পরিচালিত হয়, সেগুলো তৃতীয় কোনো দেশের সাথে বৈধ বাণিজ্য করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করার অধিকার নেই।
তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই। এছাড়া এগুলো জাতিসংঘ সনদের ২ নং অনুচ্ছেদের ১ নং ধারায় বর্ণিত সার্বভৌম সমতার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাঘেয়ি অর্থনৈতিক জবরদস্তিকে একটি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং অন্যায় কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে নৌ অবরোধ যুক্ত করা হলে তা অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে অন্য একটি শক্তির খেয়ালখুশির ওপর নির্ভরশীল ও অস্থায়ী কিছুতে পরিণত করে।
মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনের কাছে নতি স্বীকার করলে তা জাতীয় সার্বভৌমত্বের সম্পূর্ণ অবক্ষয় ঘটাবে এবং প্রকাশ্য, পূর্ণাঙ্গ ঔপনিবেশিকতার এক বিপর্যয়কর প্রত্যাবর্তন হিসেবে কাজ করবে।
আজকালের খবর/বিএস