নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সাইন্সল্যাব ও সিটি কলেজ এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বুধবার সকালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা তদারকিতে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অভিযানকালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগর ভবনে বসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতো বিশাল এলাকা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে অঞ্চলভিত্তিক গণশুনানি চালু করা হয়েছে। সরাসরি এলাকায় গিয়ে নাগরিকদের সমস্যার কথা শোনা হয়েছে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ নাগরিক—উভয় পক্ষকেই সচেতন হতে অনুরোধ এবং সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে নেমে চূড়ান্তভাবে তদারকি করার সময় এসেছে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন ডিএসসিসির যেকোনো এলাকায় আকস্মিক পরিদর্শনে যাবেন তিনি। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায়, সড়কবাতি ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সেবার মান যাচাই করা হবে। সেবাদানে কোনো বিভাগের সামান্যতম গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা কিংবা পানি জমিয়ে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর পরিবেশ তৈরি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর জরিমানা করা হবে। সবার সচেতনতা ও সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অভিযানকালে ডিএসসিসি প্রশাসক ফুটপাত, বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ফুটপাতে অবৈধভাবে বসানো ভ্রাম্যমাণ দোকান বাজেয়াপ্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএসসিসির তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে নির্মাণাধীন একটি ভবনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ‘এ হোসাইন বিল্ডার’কে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের দায়ে ‘রসুই’ রেস্তোরাঁকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ১০ হাজার টাকা এবং ফুটপাতে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জনস্বার্থে নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে ডিএসসিসির সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
আজকালের খবর/এমকে