![]() |

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ‘বৃক্ষবৃত্তি ও সবুজ নগর গঠন’ কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্লান্ট স্কলারের উদ্যোগে রোববার ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়গ্রাম ব্যাটারিঘাট সড়ক ও বুড়িগঙ্গা নদীসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না; নদী, খাল, ড্রেন ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সামাজিকভাবে পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে সবাইকে এ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই পরিবেশ সুরক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন। আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সুন্দরবন যেমন ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষা দেয়, তেমনি সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
পরিচ্ছন্নতা ও নদী সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে আগামী শুষ্ক মৌসুমে নদীর চ্যানেল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ড্রেন ও নদীতে পলিথিন কিংবা বর্জ্য না ফেলার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
কামরাঙ্গীরচরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মো. আবদুস সালাম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় প্রবেশের সুবিধার্থে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আট লেনের সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আজকালের খবর/ এমকে