মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। বাংলাদেশে লাভজনক ব্যবসা ও বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরে তিনি সাবাহর ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
১৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের মালয়েশিয়া চায়না চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট দাতুক ডেক্সটার লাও এবং ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের চেয়ারম্যান মিস্টার লিয়াও হেন কংয়ের সঙ্গে পৃথক দুটি বৈঠক করেন হাইকমিশনার। বৈঠকগুলোতে সাবাহ রাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে হাইকমিশনার বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের বিশাল ভোক্তা বাজার, তরুণ জনগোষ্ঠী, দক্ষ ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তি এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বিশেষভাবে সাবাহ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ খুঁজে বের করতে ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশ সফরের জন্য উৎসাহিত করেন।
হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি প্রয়োজন। বিশেষ করে সাবাহর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট মালয়েশিয়া চায়না চেম্বার অব কমার্স ও সাবাহ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠানে অংশ নেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সাবাহ রাজ্যের শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি সাবাহর ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ এবং বিনিয়োগের সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান।
হাইকমিশনার বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, শ্রমশক্তির প্রাপ্যতা এবং তুলনামূলকভাবে কম উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়গুলো ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। এসব সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সাবাহর ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়াতে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দেশটির ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানান।
ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠানে সাবাহর বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান, ডেপুটি প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এবং প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাবাহর ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য সাবাহর বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আজকালের খবর/ এমকে