ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমাদের এই জাতীয় সংসদের এবং বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জুলাইতে যারা জীবন দিয়েছে এবং জুলাইতে যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের প্রতি যেন আমরা সুবিচার করতে পারি। যে জন্য জুলাই শহীদরা তাদের জীবন দিয়েছে জুলাই যোদ্ধারা আহত হয়েছে তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা এই সংসদের প্রধান দায়িত্ব।
আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আজকের দিন আমাদের বিজয়ের দিন। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করছি যারা বুকের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছে, বাংলাদেশকে মানুষের বাসযোগ্য একটি বাসভূমিতে পরিণত করেছে।’
এ সময় তিনি সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে স্বৈরশাসনকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। এটি একটি গৌরবময় ইতিহাস, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্ব করবে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইকে যেন ধারণ করতে পারি। আমরা যেন জনগণের চেতনাকে, জনগণের আশাকে বাস্তবায়ন করতে পারি এটি হওয়া উচিত আমাদের আজকের সংকল্প।’
তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা অঙ্গীকার করি, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে জাতীয় জীবনের প্রেরণায় রূপ দেব। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করব। জাতীয় সংসদের মর্যাদা এবং কার্যকারিতা সমুন্নত রাখবো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ রেখে যাব, যেখানে ক্ষমতার নয়, জনগণের স্বার্থই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ মানদণ্ড।’
এ সময় তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলার আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বর্তমান সংসদকে গণ-অভ্যুত্থানের ফসল বলে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এই সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ এবং এটি গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। নতুন বাংলাদেশ গঠনে এ সংসদের ওপর অনেক দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদের নারী সদস্যদের মধ্যে ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যারিস্টারসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চশিক্ষিত প্রতিনিধি রয়েছেন। একইভাবে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যরাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা প্রকৃত জনপ্রতিনিধি।
এসময় তিনি সবাই মিলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে সক্ষম হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ ছিল, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানকে একদিন বা দুদিনের ঘটনা নয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের অক্লান্ত সংগ্রামের ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের সুদৃঢ় ভিত্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং জনগণের কল্যাণে সততা, প্রজ্ঞা ও ন্যায়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তৌফিক প্রার্থনা করেন।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
আজকালের খবর/ এমকে