গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অভিযান চালিয়ে হত্যা প্ররোচনা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তাত করেছে র্যাব-৬ এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল। শনিবার (৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় ।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা প্ররোচনা মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছিল র্যাব। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার গোপন সংবাদের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে র্যাব সদস্যরা দীর্ঘদিন পলাতক থাকা তিন আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. নুরুদ্দিন শেখের ছেলে মো. আবু তালেব শেখ (৪০), তার ছেলে মো. সজীব ইসলাম জয় (২২) এবং আবু তালেব শেখের স্ত্রী মুক্তা রিমা বেগম (৪০)। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার সর্বসাং লীলফা এলাকায় বলে জানা গেছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানায় দায়ের করা হত্যা প্ররোচনা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলাটি চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি । মামলা নং০৩ (জিআর০৩) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিল।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি Infinix X6831, একটি Samsung Galaxy A22, একটি Symphony L280 এবং একটি Nokia বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণ করে সেগুলো জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে র্যাব-৬, ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধ সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
আজকালের খবর/আরএম