এবার শরৎচন্দ্রের লেখা সৌদামিনী চরিত্রে পর্দায় হাজির হচ্ছেন রাজ রিপা। এরমেধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর শরৎচন্দ্র ফিরছেন সেলুলয়েডে। আর এই বিরতি ভাঙছেন পরিচালক দেওয়ান নাজমুল।
জানা গেছে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘স্বামী’ গল্প অবলম্বনে দেওয়ান নাজমুল নির্মাণ করছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শিশির ভেজা চোখ’। এ সিনেমায় রাজ রিপা অভিনয় করছেন সৌদামিনী চরিত্রে। তবে সিনেমার মতো সৌদামিনী চরিত্রের নামও পরিবর্তন করেছেন নির্মাতা। নতুন নাম দিয়েছেন মিনী।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্বামী গল্পে দেখানো হয়েছে মোহ আর সত্যিকারের ভালোবাসার পার্থক্য। ছোটবেলার ভালোবাসার টানে সৌদামিনী তার স্বামী ঘনশ্যামকে ফেলে নরেন্দ্রর সঙ্গে ঘর বাঁধে। কিন্তু কিছুদিন পরই তার ভুল ভাঙে; সে বুঝতে পারে নরেন্দ্রর প্রতি তার টানটা ছিল নেহাতই একটা মোহ। অন্যদিকে, তার স্বামী ঘনশ্যামের ধৈর্য, নিঃস্বার্থ ত্যাগ আর ক্ষমাশীলতাই ছিল আসল ভালোবাসা। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর মনে চিরকালের মতো প্রকৃত স্বামী হয়ে ওঠে। ১৯৪২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ হয়েছিল স্বামী।
২২ অক্টোবর থেকে বিক্রমপুরের শ্রীনগরে শুরু হয়েছে শিশির ভেজা চোখ সিনেমার শুটিং। পর্দায় সৌদামিনী হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে রাজ রিপা বলেন, ‘শরৎচন্দ্রের লেখা সৌদামিনী হয়ে বড় পর্দায় আসা আমার জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। এমন চরিত্র আর পাব কিনা জানি না। নির্মাতার কাছে প্রস্তাব পাওয়ার পর সুযোগটি হাতছাড়া করিনি। শুটিং শুরু হওয়ার আগে গল্পটি পড়েছি। ভেতর থেকে উপলব্ধির চেষ্টা করেছি সৌদামিনীকে। সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। শুটিং সেটে পরিচালক আমার অভিনয় দেখে বলছেন, তিনি তাঁর সিনেমার উপযুক্ত সৌদামিনীকে পেয়েছেন। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
নির্মাতা নাজমুল দেওয়ান বলেন, ‘এই সাহিত্যকর্ম অনেক পুরোনো হলেও মানুষের আবেগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আধুনিকতা ও ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটলেও শিকড় বদলায়নি। সিনেমা বানাতে গিয়ে সিনেমাটিক পরিমার্জন ছাড়া শরৎচন্দ্রকেই সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেছি। তাঁর চিন্তাচেতনা, ধ্যানধারণার পরশ সিনেমাটির প্রতিটি দৃশ্যেই পাওয়া যাবে।’
পরিচালনার পাশাপাশি শিশির ভেজা চোখ সিনেমার চিত্রনাট্য, সংলাপ সংযোজন এবং গান রচনা করেছেন দেওয়ান নাজমুল। বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করছেন শিপন মিত্র, সাব্বির আহমেদ, শিবা শানু, শিরীন আলম, রেশমা আহমেদ, ববি, জ্যাকি প্রমুখ।
আজকালের খবর/আতে