শরৎকাল শেষ হয়ে হেমন্তের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে প্রকৃতি। ভোরের হালকা শীত ও শিশির পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি হিসেবে খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই তিন ঋতুতে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। খেজুরের রস দিয়ে তৈরি হয় পাটালি ও তরল গুড়। এছাড়াও সকালে গাছ থেকে হাঁড়ি নামিয়ে তাজা খেজুরের রস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে পিঠা-পুলি ও পায়েসসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ির আশপাশে, পুকুরপাড়ে, রাস্তার পাশে ও বিভিন্নস্থানে অসংখ্য খেজুরগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই ঝোড়ার কাজ শুরু হয়েছে। আর ১৫ থেকে ২০দিন পর খেজুরগাছে হাঁড়ি লাগিয়ে রস সংগ্রহ শুরু হবে। তাই আগেভাগেই গাছ ঝোড়ে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
রস সংগ্রহ শুরু হলে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠবে খেজুরের পাটালি ও তরল গুড়ের বেচাকেনা। উপজেলার কুন্দারহাট, ওমরপুর, রণবাঘা ও নন্দীগ্রাম হাট-বাজারে খেজুরের পাটালি ও তরল গুড়ের বেচাকেনা বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও পাওয়া যায় খেজুরের পাটালি ও তরল গুড়।
খেজুরের রস ও গুড়ের মৌসুম ঘিরে একদিকে যেমন গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি ও নানা রকম মুখরোচক খাবারের অপেক্ষায় রয়েছেন গ্রামবাংলার মানুষ। নন্দীগ্রাম উপজেলার হাটলাল গ্রামের আফছার আলী বলেন, আমার ১২টি খেজুরগাছ আছে। প্রতিটি খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজে গাছিকে ১৫০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। এখন পুরোদমে চলছে খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজ। যারা খেজুরগাছ ঝোড়ার কাজ করে তাদেরকে গাছি বলা হয়।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন