রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হার্ডওয়্যার, ফার্নিচার, গাড়ির শোরুম ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোহাম্মদ মাহবুব আলম শেখ। সম্প্রতি তার ব্যবসায়িক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ‘ভূমিদস্যু’ ও ‘অবৈধ দখলদার’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত তথ্য, জমির দলিলপত্র ও সরকারি নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ও সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা এ আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহবুব আলম শেখ দাবি করেন, সাগুফতা এম এম হাউজিং লিমিটেড বা সালাউদ্দিন গংয়ের কোনো জমি তারা দখল করেননি। বর্তমানে যে সম্পত্তিটি তাদের ভোগদখলে রয়েছে, তার বায়নাকৃত দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদসহ সব বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে।
তিনি জানান, সালাউদ্দিন গংয়ের সঙ্গে তাদের জমি কেনাবেচার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। মূল বিরোধ একই দাগের সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে। মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তি একই দাগের মালিকানা দাবি করছেন। অথচ তার দাবিকৃত সম্পত্তির একটি অংশ বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট দূরের জায়গার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা থেকে এই বিরোধের সৃষ্টি।
বিষয়টি সমাধানের জন্য পূর্ব ও বর্তমান মালিকদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ ও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাহবুব আলম বলেন, পল্লবী থানার পক্ষ থেকেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু মোহাম্মদ আলী সেখানে উপস্থিত হননি। থানার প্রতিবেদন যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করা হলেও কয়েকটির রায় এরই মধ্যে তাদের পক্ষে এসেছে এবং বাকিগুলো বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩২৯০ নম্বর দাগের মালিকানা ও রেকর্ডের বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। বলা হয়, প্রাপ্ত কাগজপত্র অনুযায়ী প্রকল্পের অন্যান্য জমিসহ ছয়টি খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৩৩৮০১ নম্বর দাগের কমবেশি ২২ কাঠা জমি তারা বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। শুধু এক পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে ‘ভূমিদস্যু’ বলা সমীচীন নয়।
এর আগে মোহাম্মদ আলীর করা এক সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মো. আলী আকবর মামুন। তিনি বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী, পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে সম্মানহানি করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জমি দখল ও লুটতরাজ সংক্রান্ত মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন এবং এসিল্যান্ড কার্যালয়ের নথিতে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল পরিস্থিতি স্পষ্ট।
ভুক্তভোগীরা বলেন, কোনো সাংবাদিকের স্বাধীনতায় তারা হস্তক্ষেপ করতে চান না। তবে সংবাদ প্রকাশের আগে সরেজমিনে গিয়ে সব পক্ষের বক্তব্য, সিএস, আরএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান এবং সরকারি নথি যাচাই করার অনুরোধ জানান তারা।
ইতোমধ্যে এসব মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রচারের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
আজকালের খবর/