বৃহস্পতিবার ● ১ অক্টোবর ২০২৬
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৩ পিএম   (ভিজিট : ১২)
জ্বালানির মূল্য ও পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতিতে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরকম বাস্তবতায় আপাতত নীতি সুদহার কমাবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রেখে প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক ভিত্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি গভর্নর বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হার ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি কমলেও তা দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে আসার যথেষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা, দেশে জ্বালানির নিয়ন্ত্রিত মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয় এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এ অবস্থায় আগেভাগে মুদ্রানীতি শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা বেড়ে যেতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মুদ্রানীতিতে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে একই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২.২ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ওই সময়ে শিল্প উৎপাদন ০.২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ এবং কৃষি, ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে অর্থনীতির সরবরাহসংক্রান্ত বাধাগুলো দূর করা সম্ভব নয়। তাই বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।

মুদ্রানীতি শিথিল করার পর আর্থিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত ২ আগস্ট থেকে নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ কার্যকর করা হয়। এরপর আন্তঃব্যাংক সুদহার ও সরকারি সিকিউরিটিজের ইল্ড কমেছে।

তবে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা ও ঋণ বিতরণ এখনো দুর্বল। ২০২৬ সালের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪.৭৫ শতাংশ। বিনিয়োগে মন্থরতা, ঋণগ্রহীতাদের উচ্চ ঝুঁকি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এর অন্যতম কারণ।

এদিকে ২০২৬ সালের জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক পুনর্গঠন, সুশাসন নিশ্চিত করা, মূলধন পুনরুদ্ধার এবং ঋণ শৃঙ্খলা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ওই অর্থবছরে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬.৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূলত আর্থিক হিসাবের ঘাটতি এর জন্য দায়ী।

এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। পাশাপাশি বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকায় আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা মিলেছে।

মুদ্রানীতিতে আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য কয়েকটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য, কঠোর বৈশ্বিক মুদ্রানীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।

এ ছাড়া রাজস্ব খাতের চাপ, জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করাই এখন মুদ্রানীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজকালের খবর/বিএস 









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft